নারীর জন্য নিরাপদ সমাজ তৈরি করতে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিলো পুলিশ

রিয়েল সিলেটঃ আকর্ষণীয়, মুগ্ধ ও প্র’লুব্ধ করার জন্য যে শক্তির ওপর আমাদের দাঁড়ানোর দরকার, যার ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্রের শা’সন দাঁড়ায় এখান থেকে সম্ভবত আমরা অনেক দূরে রয়েছি।

আমরা কী মানুষকে ভালোবাসতে শিখিনি এখনো? যেমন বাংলাদেশ পুলিশবাহিনীর কথাই বলি না কেনো? পুলিশবাহিনী সমাজের নানারকম সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ করে থাকে। প’রিত্যক্ত-পঁ’চা লা’শ উ’দ্ধার, পঞ্চাশ টুকরো লা’শের পরিচয় বের করা,

করোনায় নি’হত ব্যক্তির লা’শ উ’দ্ধার করে সমাহিত করা, সাক্ষীকে এনে কোর্টে বি’চারকের সামনে হাজির করা বা কু’খ্যাত ধ-র্ষ=ক ও খু’নিকে আদালতে উপস্থিত করা। হ’ত্যামামলার চার্জশিট দেওয়া, জীবনবাজি রেখে সিরিয়াল কি’লারদের পাকড়াও করা অতঃপর আদালতে হাজির করা। এতো কাজ করার পরও পুলিশকে নে’তিবাচক

দৃষ্টিতে দেখার কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। সকল সময়ই কিন্তু আমরা পুলিশকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁ’ড় করাই। আমরা একবারও ভাবি না বা ভাবতে চাই না বাংলাদেশ পুলিশ ভীনগ্রহ থেকে আসেনি। তারা আমাদেরই ভাই, বোন, চাচা-চাচি, খালা-খালু বা সম্মানিত আত্মীয় যে কেউ হতে পারে। আমি বোঝাতে চেয়েছি তারা আমাদের প্রাণের মানুষ। এই সমাজে পুলিশকে প্রিয় করে তুলতে তাদের

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে শতভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। এই সত্যকে অ’স্বীকার করা যায়? দেশে এ মুহূর্তে আলোচিত ইস্যু ধ-র্ষ-ণ ও না’রী নি’র্যা’তন। এমন একটি জ’টিল ও মা’রাত্ম’ক ইস্যুর ব্যাপারে বাংলাদেশ পুলিশের এই প্র’তিবাদ সভা অবশ্যই আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। একযোগে সারাদেশে ধ-র্ষ-ণবি’রোধী সমাবেশ করেছে পুলিশ। এ ধরনের প্র’তিবাদী সভা-সমাবেশ অতীতে হয়েছে বলে আমার

মনে হয়নি। শুধু তাই নয়, এ ধরনের প্র’তিবাদী সমাবেশ কোনোকালে কোনোদিন পুলিশ চিন্তাও করেনি। কেন যেনো মনে হচ্ছে ড. বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি না হলে এটা কোনোদিনই সম্ভব হতো না। পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত প্রতিবাদী সমাবেশ কখনো হতো না। তিনি সবসময়ই ব্যতিক্রম। অসাধারণ মেধাবী পুলিশ মহাপরিদর্শকের গণমুখী প্রতিটি কাজকে সম্মান দিতে হবে। তাঁর দেশপ্রেম বা জনগণ নিয়ে ভাবনা প্রকৃতপক্ষেই

আলোর গতিপথ বিস্তৃত করে। এ ধরনের গণমুখী উদ্যোগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকেও শ’ক্তিশালী করবে। কাউকে আ’ঘাত দিতে বা আ’হত করার উদ্দেশে বলছি না, বাস্তবতার আয়নায় বলছি। আমাদের যারা বুদ্ধিজীবী, তারা সমাবেশ-সিম্পোজিয়াম-সেমিনারে আ’লোচনাকালে বলে থাকেন, ধ-র্ষ-ণবি’রোধী সামাজিক প্র’তিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু সামাজিক প্রতিরোধটি কীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব- এটা বলেন না। এই যে কথামালার ফাঁক এটা তুলে ধরতে হবে।

‘বায়বীয় আলোচনা’য় নারী নি’র্যা’তন প্র’তিরোধের মতো কঠিন কাজটি করা সম্ভব হবে না। বাস্তবমুখী পদক্ষেপ অতীব জরুরি। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে ধ-র্ষ-ণসংক্রান্ত মা’মলায় গত ১১ বছরে পাঁচজনের মৃ’ত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। দলবদ্ধভাবে ধ-র্ষ-ণ এবং এককভাবে ধ-র্ষ-ণের পর হ’ত্যা বা মৃ’ত্যু ঘটানোর অ’পরাধে এই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন মৃ’ত্যুদণ্ডে দ’ণ্ডিত আরও ১৪৪ জন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিপত্রে জানা যায়, পাঁচজনের মধ্যে একজনের ফাঁ’সি হয় ধ-র্ষ-ণের পর হ’ত্যার দায়ে।

দলবদ্ধভাবে ধ-র্ষ-ণের পর হ’ত্যার দায়ে ফাঁ’সি হয় বাকি চারজনের। ধ-র্ষ-ণের পর হ’ত্যায় এবং দলবদ্ধভাবে ধ-র্ষ-ণের ক্ষেত্রে মৃ’ত্যুদণ্ডের বিধান আগে থেকেই রয়েছে। এরপরও কিছুদিন ধরে এ ব্যাধি চরম আকার ধারণ করে। অনেকের মধ্যে স’ন্দেহ ছিল- নারী নি’র্যা’তন বি’রোধী সমাবেশ পুলিশ করতে পারবে কিনা। কিন্তু বা’স্তব সত্য হলো এটা পুলিশ করেছে। ধ-র্ষ-ণকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্র’তিবাদ জানিয়ে স’মালোচকদের দেখিয়েছে, যে এটা পুলিশ করতে সক্ষম। ধ-র্ষ-ণ ও নারী নি’র্যা’তনের বি’রুদ্ধে ধারাবাহিক আ’ন্দোলনের মধ্যে এ বিষয়ে সমাবেশ করেছে পুলিশ।

নিজের কৌতূহল থেকেই দেখলাম, শনিবার সকালে ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে ধ-র্ষ-ণ ও নারী নি’র্যা’তনবি’রোধী এই সমাবেশ করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ধ-র্ষ-ণ, নারী ও শিশু নি’র্যা’তনের প্রতিটি ঘটনায় অ’পরাধীকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে পেশাদারিত্বের সাথে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশের প্রতিটি সদস্য। এদেশের মানুষ মনে করে, এটা অ’তিগুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। দেশজুড়ে বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে ৬ হাজার ৯১২টি বিট পুলিশিং এলাকায় শনিবার একযোগে নারী ধ-র্ষ-ণ

ও নি’র্যা’তন বি’রোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত করা চাট্টিখানি কথা নয়। সমাবেশে সংশ্লিষ্ট বিট পুলিশিং এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রতিটি বিট পুলিশিং এলাকায় আয়োজিত এই সমাবেশে ধ-র্ষ-ণ ও নারী নি’র্যা’তন বি’রোধী পোস্টার, লিফলেট ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে জনসাধারণকে এসব অ’পরাধের বি’রুদ্ধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। এ ধরনের ঘৃ’ণ্য অ’পরাধের বি’রুদ্ধে সচেতন হওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। নি’র্যা’তনের শি’কার নারী ও শিশুর পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়।

ধ-র্ষ-ণ ও নি’র্যা’তন বি’রোধী সমাবেশ পুলিশ জানায়, নারী ও শিশু নি’র্যা’তনসহ যেকোনও প্রকার অ’পরাধের বি’রুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ সোচ্চার রয়েছে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থনে এ ধরনের অ’পরাধ নির্মূলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি মো. সোহেল রানা সাংবাদিকদের জানান, শনিবার সকাল ১০টায় পুলিশের উদ্যোগে সারাদেশে ছয় হাজার ৯১২টি বিটে একযোগে নারী-শিশু ধ-র্ষ-ণ ও নি’র্যা’তন-বি’রোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠান সরাসরি স’ম্প্রচার করা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের বিট পুলিশিং কেন্দ্রের ছয় হাজার ৯১২টি ফেসবুক পেজে। সারাদেশে লাখ লাখ নারী

ও পুরুষ সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং কোটি কোটি দর্শক ও সাধারণ মানুষ এই সমাবেশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন। নিঃ’সন্দেহে ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নি’র্যা’তন-বি’রোধী সচেতনতা সৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইতোমধ্যেই প্রতিটি বিটের নিজস্ব একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। নারী ধ-র্ষ-ণ ও নি’র্যা’তনের বি’রুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৫০টি থানার ৩০২টি বিট পুলিশিং এলাকায় একযোগে নারী ধ-র্ষ-ণ ও নি’র্যাতন বি’রোধী সমাবেশ করা হয়েছে। রিকশায় বসে যাওয়ার পথে দেখলাম, সকাল এগারোটায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ডিএমপির সকল বিট এলাকায় একযোগে নারী ধ-র্ষ-ণ ও নি’র্যা’তন বি’রোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

হয়েছে। ধর্ষণ ও নি’র্যাতন-বি’রোধী সমাবেশে পুলিশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্র’তিনিধি, জনপ্রতিনিধি, নারী ও শিশু অ’ধিকারকর্মী, স্থানীয় নারী ও স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে তারা উল্লেখ করেন, ধ-র্ষ-ণসহ যেকোনও প্রকার নারী ও শিশু নি’র্যা’তন রোধে সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি করা সম্ভব হলেই নি’র্যা’তনের সা’হস কেউ পাবে না। আমরা এটা স্বীকার করি, পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ডিআইজির বোধোদয় অনেকখানি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে আমাদের সমাজে। ‘যে সমাজে নারীরা নিরাপদ থাকবেন না, নিরাপদে স্কুল-কলেজে যেতে পারবেন না, বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন না- সে সমাজ কোনোদিন সভ্য সমাজে পরিণত

হতে পারে না। বেগমগঞ্জে নারীকে নি’র্যা’তন ও বি’বস্ত্র ছবি ভাইরাল আমাদের পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে গোটা জাতিকে লজ্জায় ফেলেছে বলে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন মন্তব্য করেছেন। গতকাল সকালে বেগমগঞ্জের এখলাসপুর ফাজিল মাদ্রাসা ময়দানে নারী ধ-র্ষ-ণ ও নারী নি’র্যাতনবিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। নারী নি’র্যা’তন বন্ধে অ’পরাধীকে প্রশ্রয় না দিতে বক্তব্য দিয়েছেন সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অ’পরাধ ও অ’ভিযান) এসএম মোস্তাক আহমদ খান। এসব সমাবেশ থেকে নারী নি’র্যা’তন প্রতিরোধে অ’পরাধীদের প্রশ্রয় না দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। বিভিন্ন মামলার রায় বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বলছেন,

মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের ক্ষেত্রে প্রমাণের দায়ভার অনেক বড় হয়। সে ক্ষেত্রে চুলচেরা সুনিশ্চিত প্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির খালাস পাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। নিম্ন আদালতে হওয়া মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের বেশির ভাগ উচ্চ আদালতে টেকে না। বি’চারপ্রার্থীর অপেক্ষার প্রহর দশকের পর দশক গড়ায়। এই বাস্তবতা আমাদের স্বীকার করতেই হবে। তবে মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের রায় অ’পরাধীদের মধ্যে ভ’য় হিসেবে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সম্প্রতি ধ-র্ষ-ণের শাস্তি মৃ’ত্যুদণ্ড করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা মানুষের হৃদয়ের কথা বুঝতে পারেন। কখন কী করা উচিত তা অনুধাবন করেন। আপাদমস্তক রাজনীতিমনস্ক হলেও লেখক এবং চিন্তাবিদ আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদাই তাঁর প্রিয় জনগণের প্রতি আত্মনিবেদিত।

রি/সি/অ ৪৮৭৬৩