যে কারণে ‘আয়মান সাদিকের ফাঁ’সি দাবি করেছিলেন এনামুল হক

‘আয়মান সাদিকের ফাঁ’সি চাই’ এমন একটি মন্তব্য লিখেছেন। সেই মন্তব্যে একজন এসে জিজ্ঞেস করলো কেন ফাঁসি চান? ‘তিনি পাল্টা উত্তর দিলেন, সবাই লিখতেছে, তাই আমিও লিখেছি।’ এই কথোপকথনের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে যায়। এই স্ক্রিনশট ভাইরালের কারণেই ছেলেটির স্ত্রী

পিতার বাড়ি চলে যায়। আরে এ কারণে লাইভে এসে কান্নাকাটি করতে থাকে ছেলেটি। এই ছেলেটির নাম এনামুল হক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলড হয়ে মানুষ অন্তরালে চলে যান। এনামুলের ক্ষেত্রে হলো উল্টো। তিনি কয়েকদিন পর লাইভে এলেন। জানালেন তার স্ত্রী সাময়িক চলে গিয়েছিল। ফিরে এসেছে। একই সাথে প্রশ্নও করেন, কেন আপনারা এরকম সব জিনিস ভাইরাল করে দেন?’

ফল উল্টো, সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেল। অর্থাত এনামুল যা বলেন তাই ভাইরাল হয়ে যায়। যার কারণে সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচিত ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদি, তাহসিনেশ এনামুলকে তাদের সঙ্গে যৌথ লাইভে আমন্ত্রণ জানান। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় এনামুল বেশ আলোচিত ব্যক্তি। ফেসবুক লাইভে এলেই তার কথা শোনার জন্য মানুষজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। বিশেষ করে এনামুলের লাইভে উল্টোপাল্টা প্রচুর মন্তব্য করে নেটিজেনরা।

আর সেসবের উত্তরগুলোই মূলত বিনোদিত করে নেটজনতাকে। বিষেশ কোড়ে ‘হুং’কার’ ও ‘গ’র্জন’ দেন এনামুল। তার রয়েছে কোটি কোটি ‘সৈনিক।’ এসব কথার মানে কী? যারা এনামুলকে চেনেন তাদের নিকট মানে তৈরি করে দিতে হবে না নিশ্চই। তবে ন্তুঞ্জ পাঠকরা সম্পূর্ণ লেখাটা পড়লেই বুঝে যাবেন। এনামুল হক স্ত্রী সাবরিনাকে নিয়ে সাভারে থাকেন। দেশের বাড়ি ময়মনসিংহের হায়ালুঘাটে। কথা হলো এনামুলের সঙ্গে। বললেন সবিস্তারে, তবে ব্যক্তিগত অনেক বিষয় তিনি খোলশা করতে রাজি নন। এনামুল বলেন,

‘আমি একজন শিক্ষক। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াই। বিয়ে করেছি এক বছর হলো। আমার স্ত্রীকে আমি খুবই ভালোবাসি। আজ (গতকাল) ছিল আমাদের অ্যানিভার্সারি। একটা মন্তব্য আমার এমনভাবেই ভাইরাল হয়ে যাবে ভাবিনি। সাময়িকভাবে আমার স্ত্রী আমাকে ছড়ে চলে গিয়েছিল, পরে ফিরে এসেছে।’ এনামুল অবশ্য ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এইদিনেই কোটি ভক্তির বুকে আ’ঘাত দিয়ে তোমার দু’হাত ধরেছিলাম,,’ আপনি হলেন ট্রোল্ড, হলেন সমালোচিত। উল্টো আপনি লাইভে জনপ্রিয় হয়ে গেলেন। ঘটনা কী? জবাবে এনামুল বলেন, ‘দেখেন, আমি যখন দেখলাম মানুষ আমার কথা শুনছে তখন আমি ভাবলাম, এটাকে কাজে লাগানো যেতে পারে। অনেকেই মনে করেন্ম আমি অ’শ্লীল কমেন্ট বেছে বেছে পারি,

আদতে বিষয়টি এমন যে আমি সেইসব কমেন্ট প্রদানকারীকে কৌশলে সুপরামর্শ দেই। এটা একটা ইতিবাচক বিষয়। আমার স্ত্রী লাইভের বিষয়টিকে নিরুৎসাহিত করতো, এখন সে কিছু বলে না। এখন আমি সুযোগ পেলেই হুং’কার দেই।’ হুংকার ও গর্জনের বিষয়টি একটু বুঝিয়ে বলেন, আর সৈনিক সংখ্য ঠিক বুঝলাম না? এনামুল বলেন, ‘আপনার সঙ্গে সামনাসামনি এনামুল ও সোশ্যাল মিডিয়ার এনামুল দুটো কিন্তু ভিন্ন জিনিস। লাইভে এনামুল যেসব কথা বলে সেসবই একেকটা হুংকার। এই হুংকারকে সকলে ভয় পায় খারাপ কাজ হতে বিরত থাকে। এনামুল সিংহের অনেক উর্ধ্বে চলে গেছে, যার কারণে এনামুলের গর্জন ও হুংকার দুটো খুবই কাজই দায়ক। এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে আমার লাইভে আসবেন। আমার সৈনিক সংখ্যা কোটি কোটি,

সৈনিকাও রয়েছে অনেকে। আমাকে অনুসরণকারীরাই হলো আমার সৈনিক, সৈনিকা।’ এনামুলে বাবা মা থাকেন হালুয়াঘাটে। ঢাকায় ছেলে তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। কিন্তু বাবা-মায়ের কানে কি পৌঁছেছে বিষয়টি, জানতে চাওয়া হয়েছিল এনামুলের নিকট। এনামুল বলেন, ‘বাবা-মা তো জানতো না। কিন্তু এলাকার ছেলেরা দেখিয়েছে আমার মা-বাবাকে। আমার মা ফোন করে বলে বাবা এনামুল এসব কী ঙ্করিস, এসব ছেড়ে দে… তারা তো গ্রামে থাকে, এসব তো বুঝবে না। তাই আমি কিছু বলি না। আমাকে কয়েকবার বলার পরে এখন আর বলে না কিছু। আসলে কিছু বলার তো নাই।’ আপনার লাইভেই এতো বাজে মন্তব্য আসে কেন? এনামুলকে এ প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি খারিজ করে দেন।

বললেন, ‘ভুল বলেছেন আপনি। ক’দিন আগে সাকিব আল হাসানের মেয়ের একটি ছবি পোস্ট করা হলে সেখানে বাজে মন্তব্যে ভরে যায়। অথচ কি নিষ্পাপ একটি শিশু সূর্যমুখী বাগানে ছবি তুলেছিল। সেখানে এতো এতো বাজে কমেন্টের কি আছে? অথচ দেখেন সেখানে বাজে কমেন্টে ভরে গেছে। এটা শুধু আমার লাইভে না। সবখানে, সব পোস্টে তারা এমন কমেন্ট করে। আমি লাইভে এসজন্যই আসি, বিনোদনের মাধ্যমে আমি তাদের নৈতিক কথাও বলি, যেন তারা একটু হলেও চিন্তা করে। দেখবেন, একদিন চেঞ্জ হবেই।’ অর্থাৎ এনামুলের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তিনি ধীরে ধীরে এমন বাজে মন্তব্য করার সংস্কৃতি দূর করে দেবেন। জানালেন, যে আয়মান সাদিকের স্ক্রিনশট দিয়ে আমি ভাইরাল হয়েছি। তার সঙ্গেও এখন আমার ভালো সম্পর্ক। তিনিও আমার সৈনিক। আমার জন্য দোয়া করবেন।