কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এ জিনের বাদশা! কে এই জিনের বাদশা…

মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার মূলহোতা জিনের বাদশা হাকিম চৌধুরীকে (৪৫) জে’লা কারাগারে প্রেরণ করেছেন আ’দালত। টিভিতে বিজ্ঞাপন সে প্রতারণা করত।

মঙ্গলবার দুপুরে মাদারীপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বি’চারক মামুনুর রশিদের কাছে হাজির করা হলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি ১৬৪ ধা’রায় জবানব’ন্দিতে স্বীকার করেছেন। পরে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাকিম চৌধুরীকে কা’রাগারে পাঠানোর আ’দেশ দেন।

এর আগে রোববার ভোরে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকা থেকে কথিত জিনের বাদশাকে গ্রে’ফতার করে মাদারীপুর জে’লা পু’লিশ। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পু’লিশ সুপার মোহাম্ম’দ বদরুল আলম মো’ল্লা বলেন, ভারতীয় জি-বাংলা ও দেশের বেশ কয়েকটি টিভিতে জিনের বাদশা সব রোগ সারাতে পারে- এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছে একটি প্রতারক চক্র।

নানা ধরনের রোগের মু’ক্তির কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়া সব মিলে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা ও এফডিআরসহ ৬৮ লাখ টাকা ইতোমধ্যে জ’ব্দ করা হয়েছে।

প্রতারক চক্র সারা দেশ থেকে প্রায় তিন শতাধিকের বেশি মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা নিয়েছে। চেহারা পরিবর্তন করে টিভিতে বিজ্ঞাপন দেয়া হাকিমকে সহজেই কেউ চিনতে পারত না। গত ৯ আগস্ট এই প্রতারক চক্রের কাছে মাদারীপুরের এক গৃহিণী ৫৮ লাখ টাকা খুইয়ে বি’চারের আশায় সদর মডেল থা’নায় একটি মা’মলা করেন।

পরে অ’ভিযান চালিয়ে গত ২৬ আগস্ট প্রথম ধাপে ৪ লাখ টাকা উ’দ্ধারসহ এই চক্রের দুই সদস্য জসিম উদ্দিন ও আবদুর রহমান আমানকে চট্টগ্রামের রাউজান থেকে গ্রে’ফতার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চার দিন অ’ভিযান চালিয়ে মূলহোতা হাকিম চৌধরীকে রোববার ভোরে একই স্থান থেকে গ্রে’ফতার করে মাদারীপুর জে’লা পু’লিশ।

হাকিমকে নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের অ’ভিযান শেষে স্থানীয় থা’নায় আ’ইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে সোমবার মাদারীপুর সদর মডেল থা’নায় নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে মাদারীপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতের বি’চারক মামুনুর রশিদের কাছে হাজির করা হলে প্র’তারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি ১৬৪ ধা’রায় জবানব’ন্দি দিয়েছেন।

পরে আ’দালতের বি’চারক প্র’তারক হাকিম চৌধুরীকে জে’লা কারাগারে প্রেরণ করেন। বাকি সদস্যদের ধরতে পু’লিশের অ’ভিযান অব্যাহত রয়েছে।