ইউএনও ওয়াহিদার বাসা থেকে কেন এতো কম টাকা নিল রবিউল? বেরিয়ে এলো আশ্চার্যজনক তথ্য …

গত ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খা’নমের বাসায় ঢুকে অ’জ্ঞাত দু’র্বৃত্ত তাকে ও তার বাবা ওমর আলী শেখকে হা’তুড়ি দিয়ে আ’ঘাত করে আ’হত করে।

বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হলে দুই দিনের মাথায় এলিট ফোর্স র‌্যা’ব আসাদুল, নবিরুল ও সান্টু নামে তিন জনকে গ্রে’ফতারের পর তাদের জ’ড়িত থাকার কথা জানায়। চু’রির উদ্দেশ্যে ওই বাসায় আসাদুল, নবিরুল ও সান্টু ঢু’কেছিল বলে জানিয়েছিল র‌্যা’ব। কিন্তু এর এক সপ্তাহ পর গত ১২ সেপ্টেম্বর

পু’লিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দে’বদাস ভট্টাচার্য্য সংবাদ সম্মেলন করে জানান, ই’উএনও অফিসের ব’রখাস্ত হওয়া মালি রবিউল একাই এই ঘ’টনার সঙ্গে জ’ড়িত থাকার কথা স্বী’কার করেছে। একই সঙ্গে হা’মলায় ব্য’বহৃত হা’তুড়িও উ’দ্ধারের কথা জানান তিনি। পরে রবিউলকে ছয় দিনের রি’মান্ডে নেওয়া হয়।

পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দে’বদাস ভট্টাচার্য বুধবার বলেন, ‘ঘোড়াঘাটের ই’উএনও ওয়াহিদা খানমের বাসায় রবিউলের বাইরে আর কারও স’ম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে সাময়িক ব’রখাস্ত করার ক্ষো’ভ থেকে হা’মলা করেছে বলে সে জানিয়েছে। এখনও ত’দন্ত চলছে। তাকে ছয় দিনের রি’মান্ডে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ত’দন্ত শেষ হলে হা’মলার মোটিফ বা উ’দ্দেশ্য স’ম্পর্কে প’রিষ্কার করে বলা যাবে।’ আলমারিতে ছিল ৪০ লাখ টাকা, খুলতে ব্যর্থ হয় রবিউল দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মক’র্তা ওয়াহিদা খানমের বাসায় নগদ প্রায় ৪০ লাখ টাকা ছিল। ছিল স্ব’র্ণালঙ্কারও। কিন্তু হা’মলাকারী রবিউল ইসলাম নিয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা।

বাকি টাকা আলমারিতে থাকায় রবিউল নিতে পা’রেনি। খোয়া যায়নি স্ব’র্ণালঙ্কারও।

জি’জ্ঞাসাবা’দে রবিউল জানিয়েছে, ই’উএনও’র বাসায় নগদ টাকা আছে এটা সে ধা’রণা করেছিল। কিন্তু এত টাকা রয়েছে এই তথ্য তার জানা ছিল না। এছাড়া সে চে’ষ্টা করেও আলমারি খু’লতে পা’রেনি। ক্ষো’ভ থেকে হা’মলা ও নগদ টাকা চু’রির পরিকল্পনা করেছিল সে। মা’মলার ত’দন্ত সং’শ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং মা’মলা সং’ক্রান্ত নথি ঘেঁ’টে এসব তথ্য জানা গেছে।

ত’দন্ত সং’শ্লিষ্ট কর্মক’র্তারা বলছেন, ই’উএনও’র বাসার সাবেক মালি ও পরিচ্ছ’ন্নতাকর্মী রবিউল আলমারি খু’লতে পারেনি। সে ওয়াহিদা ও তার বাবা ওমর আলী শেখকে হা’তুড়ি দিয়ে পি’টিয়ে অ’চেতন করে ওয়্যারড্রোবের ওপরে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। যদি সে আলমারি খু’লতে পারতো তাহলে হয়তো সব নগদ টাকাসহ স্ব’র্ণালঙ্কারও নিয়ে যেত।

জি’জ্ঞাসাবাদে রবিউল জানায়, ই’উএনওর বাসায় নগদ টাকা রয়েছে এ বিষয়ে ধা’রণা ছিল রবিউলের। কিন্তু সে একটা চাবি পেয়ে আলমারি খো’লার চে’ষ্টা করে ব্য’র্থ হয়। পরে ওয়্যারড্রোবের ওপরে রাখা ইউএনও ওয়াহিদা খা’নমের ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা ৫০ হাজার টাকার একটি বান্ডিল নেয় সে।

এ সময় ফ’জরের না’মাজের আ’জান শুরু হলে সে দ্রুত ভে’ন্টিলেটর দিয়ে বের হয়ে চলে যায়। সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে, রাত ৪টা ৩১ মিনিটে মই ও ব্যাগ নিয়ে আম গাছের দিকে যাচ্ছে রবিউল। রাত ৪টা ৪০ মিনিটে উপজে’লার মেইন গেটের দিকে যেতে দেখা যায় তাকে।

যাওয়ার সময় ই’উএনওর বাসভবন ও অন্য কোয়ার্টারের মাঝখানে এক গোছা চাবি ফেলে যায় সে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যা’জিস্ট্রেট শাহানুর রহমানের উপস্থিতিতে ঘোড়াঘাট থা’নার ওসি আজিম উদ্দিন, পরিদর্শক (ত’দন্ত) মমিনুল ইসলাম ও মা’মলার বা’দী ওয়াহিদা খা’নমের ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন মিলে ইউএনও’র বাসার আলমারি খু’লে।

তখন দেখেন সেখানে রাখা নগদ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা, পাঁচ হাজার ইউএস ডলার, স্বর্ণালঙ্কার, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও জমা রসিদ এবং জমির দলির সব অ’ক্ষত রয়েছে। পরে নির্বাহী ম্যা’জিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মা’মলার বা’দী ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিনের হেফাজতে দিয়ে দেন।

যোগাযোগ করা হলে নির্বাহী ম্যা’জিস্ট্রেট শাহানুর আলম বলেন, ‘আমি সেখানে ছিলাম, ঘোড়াঘাটের ওসি সাহেব ছিলেন, পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে বা’দী কী কী নিয়ে গেছেন এ বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত বলতে পারবে।’

যোগাযোগ করা হলে ঘোড়াঘাট থা’নার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘বাসা থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যা ছিল, তা নির্বাহী ম্যা’জিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বা’দী নিয়ে গেছেন। এগুলো যেহেতু মা’মলার কোনও আ’লামত নয়, ফলে এসব নিয়ে আমাদের কোনও ম’ন্তব্য নেই।’