হিফজখানাগুলোতে শিশু নি’র্যাতনের ইতিহাস এদেশে অনেক পুরাতন, সি সি ক্যামেরা লাগানোর দাবি- মিজানুর রহমান আজহারী

হি’ফজখানাগুলোতে শি’শু নি’র্যাতনের ইতিহাস এদেশে অনেক পুরাতন। আধুনিককালে প্রায়শই নি’র্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়। সম্প্রতি যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেটা দেখে রীতিমত সবাই আ’তকে উঠেছে। চো’র ডা’কাতকেও তো মানুষ এভাবে পে’টায় না।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই নি’র্দয় শিক্ষক কি কোন ভু’ল করলে তার নিজ সন্তানকেও বাসায় এভাবেই পে’টায়? একজন হা’ফেজে কুরআন শিক্ষক কিভাবে এতটা হিং’স্র, পা’শবিক এবং অ’মানবিক হতে পারে? কুরআনকে শুধু হি’ফজ করে বুকে ধারণ করলেই আলোকিত মানুষ হওয়া যায় না। কুরআনের প্রকৃত ম’র্মার্থ অনুধাবন করতে হয়,

কু’রআনের র’ঙ্গে রংঙ্গীন হতে হয় এবং কু’রআনের অমিয় শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করতে জানতে হয়, তাহলেই একজন মানুষ আ’লোকিত মানুষ হয়ে উঠে। আসলে এরা সুযোগের অভাবে সৎ। বড় কোন দায়িত্ব পেলে নিশ্চিত এরা সেখানেও এরকম হিং’স্র তা’ন্ডব চালাতো। তাই, সময় এসেছে ধর্মীয় শিক্ষার নামে এসব অ’মানবিক নি’র্যাতনের বি’রুদ্ধে আ’ওয়াজ তোলার। নিজ নিজ এলাকার হি’ফজখানাগুলোর খোঁজ নিন।

নি’র্যাতনের অ’ভিযোগ পেলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানান। এদেরকে বি’চারের আওতায় আনুন। প্রতিটি হা’ফিজিয়া মা’দ্রাসায় বা’ধ্যতামূলক সি সি ক্যামেরা থাকা চাই। সি সি ক্যামেরা না থাকলে ঐ হি’ফজখানায় আপনার আদরের সন্তানদের ভর্তি করাবেন না। পাশাপাশি, যারা তাদের সন্তানদের হি’ফজখানা অথবা কোন মা’দ্রাসার ছাত্রাবাসে রেখে পড়াচ্ছেন তারা শীঘ্রই সন্তানদের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন এবং নি’শ্চিত হোন যে তারা

কোনভাবে শা’রিরীক, মা’নসিক অথবা যৌ’ন নি’র্যাতনের শি’কার হচ্ছে কিনা। ইসলাম আমাদেরকে কু’রআনুল কারীম হি’ফজ করতে উৎসাহিত করেছে কিন্তু বা’ধ্যতামূলকভাবে সবাইকে পুরো কুরআনের হা’ফেজ হতে নির্দেশ করেনি। আর এটা সম্ভবও নয়। যাকে দিয়ে যেটা হবেনা, তাকে দিয়ে জো’র করে সেটা করানোর চেষ্টা করা— বো’কামি আর সময় ন’স্ট করা ছাড়া কিছুই নয়। কু’রআন সহীহ শুদ্ধ ভাবে পড়তে পারা, নিয়মিত তিলাওয়াত ও কু’রআন বুঝাটা হল আ’বশ্যক। ত্রিশ পারা কু’রআনের হা’ফেজ তো আর সবাই হতে পারবে না। তবে,

যাদেরকে আ’ল্লাহ তায়ালা মে’ধা ও তাওফিক দিয়েছেন তাদের উচিত এই ম’হারত্নকে হৃদয়ে গেথে রাখার প্রা’নান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কারণ এ যে পরম সৌভাগ্যের বিষয় যা সবার নসিবে থাকেনা। ফুলটাইম হি’ফজের পাশাপাশি এদেশে পার্টটাইম তাহফিজ সেন্টারেরও খুব দরকার। যারা পুরো কু’রআন হি’ফজ করতে পারবে না তারা পাঁচ পারা, দশ পারা কিংবা পনেরো পারা হি’ফজ করবে। এতে ল’জ্জার কিছু নেই। আরব বিশ্বে এই সুন্দর প্রচলনটি রয়েছে। অর্থাৎ তারা প্রায় সবাই কু’রআনের কিছু না কিছু হি’ফজ করে থাকে। যাদের মেধা ভালো তারা পুরো কু’রআন আর অন্যান্যরা তাদের সাধ্যমত। এটাই

বাস্তবতা। এখানে তো জো’রাজোরি কিংবা মা’রামারির কিছু নেই। পি’টিয়ে শরীরে দা’গ করে ফেলা, হাতে পায়ে শি’কল বে’ধে রাখা, ইচ্ছা বা সা’ধ্যের বাইরে অনবরত চা’প প্রয়োগ সবটাই অ’নৈসলামিক। এতে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উন্নত দেশে চাইলেই যে কেউ শিক্ষক হতে পারে না। শিক্ষক হতে হলে নূন্যতম একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি কিছু প্রশিক্ষণ নিতে হয়। বিশেষ করে, বদমেজাজী লোক হলে তো শুরুতেই শিশুদের জন্য শিক্ষক বাছাইয়ে সে ডি’সকোয়ালিফাইড। শিশুদেরকে পড়াতে হলে, প্রচন্ড ধৈ’র্য্যশক্তি এবং যথেস্ট সেন্স অব হিউমর থাকতে হয়। মিশরে অধ্যয়নকালে বিশ্ববিখ্যাত প্রশিক্ষক ড. হু’সনি আব্দুর রহিম ক্বিনদিলের সুপারভিশনে

“আদর্শ পাঠদান পদ্ধতি” এর উপর ৫০ ঘন্টার একটি কোর্স করেছিলাম। সেখানে তিনি যেকোন পরিস্থিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বে’ত্রাঘাত করতে সর্বাবস্থায় নি’ষেধ করেছেন। ওনার মতে, ক্লাশে বে’ত রাখা যাবে কিন্তু ছা’ত্রদের উপর প্র’য়োগ করা যাবে না বরং অন্যান্য উপায়ে তাদেরকে শা’সন করতে হবে। আসলে শা’সনের যথাযথ পদ্ধতি জানা থাকলে, বেত ব্যবহারের প্রয়োজন পড়েনা। আমাদের দেশে যে কোন উপলক্ষ্যে মা’দ্রাসা কিংবা স্কুলগুলোতে বাৎসরিক ছুটি দিলে স্বভাবতই শিক্ষার্থীরা খুব খুশী হয় কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে যেখানে স্কুল বন্ধ দিলে শিশুরা

কান্না করে। কারণ তারা বাসার চেয়ে স্কুলকে বেশী ইনজয় করে। ছুটির দিনগুলোতে তারা তাদের সুন্দর ক্লাসরুম, ক্লাশমেইট এবং প্রিয় শিক্ষকদের খুব মিস করে। এই ভিডিওটিতে দেখুন একজন তাজবিদের শিক্ষক কত সা’বলীল আর প্রা’ণবন্তভাবে আরবি বর্ণমালাগুলোর সাথে জবর, যের, পেশ, সাকিন ও তাশদিদের প্রয়োগ কবিতার মত করে নেচে গেয়ে কোমলমতি শিশুদের শেখাচ্ছেন। পাশাপাশি শিশুদের জন্য বিভিন্ন চকোলেট আইটেমও শিক্ষকের টেবিলে শোভা পাচ্ছে। মনে রাখবেন জো’র করে কিছু শেখানোর নাম শিক্ষা নয়, শিক্ষা হল আপনার সন্তানের