সাদেক বাচ্চুর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আরো কিছু অবাক করা তথ্য,যে কারনে ৪০ বছর বয়স বিয়ে করেছিলেন সাদেক বাচ্চু

ঢাকাই চলচ্চিত্রের শ’ক্তিমান অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। ১৯৮৫ সালে ‘রামের সুমতি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন। খল-অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেও শুরু করেছিলেন নায়ক হিসেবে।

‘সুখের সন্ধানে’ সিনেমায় প্রথম খল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। বিখ্যাত নির্মাতা এহতেশামের সুপারহিট সিনেমা ‘চাঁদনী’তে খল চরিত্রে অভিনয় করে সাদেক বাচ্চু বিশেষ পরিচিতি পান। এবং এই সিনেমার মাধ্যমে শাবনাজ-নাঈমের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। ১৪ সেপ্টেম্বর না-ফেরার দেশে চলে গেছেন সাদেক বাচ্চু।

বরেণ্য এই অভিনেতার মৃ’ত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে শোবিজ অঙ্গনে। প্রথম সিনেমায় সাদেক বাচ্চুকে পেয়েছিলেন শাবনাজ-নাঈম। শুধু তাই নয় তাদের বিয়ের সাক্ষী ছিলেন তিনি। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে চলচ্চিত্রে সোনালি সময়ের আলোচিত এই জুটি বলেন, ‘সাদেক বাচ্চু পরিপূর্ণ অভিনেতা ছিলেন। যে কারণে প্রথম ছবিতেই তার কাছ থেকে আমরা অভিনয় সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়েছিলাম।’

নাঈম বলেন, ‘তার মৃ’ত্যুর খবর শুনে মন ভীষণ খা’রাপ হয়ে আছে। বারবার ‘চাঁদনী’ সিনেমার কথা মনে পড়ছে। বাচ্চু আঙ্কেল আমাদের হাত ধ’রে শিখিয়েছিলেন কীভাবে ক্যামেরার সামনে হাঁটতে হয়, সংলাপ ডেলিভারি দিতে হয়। তিনি হাতে ধরে আমাকে অভিনয় শিখিয়েছেন। তার তুলনা হয় না!’

শাবনাজ এখন নাঈমের সহধ’র্মিণী। শাবনাজ বলেন, ‘বাচ্চু আঙ্কেল নেই- ভাবতেই ক’ষ্ট হচ্ছে। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগে থেকেই আঙ্কেলের সঙ্গে আমাদের পরিচয়। কারণ আমার বাবা মঞ্চে কাজ করতেন। বাবা ও বাচ্চু আঙ্কেল বন্ধু ছিলেন। যে কারণে আঙ্কেল আমাকে মেয়ের মতো আদর করতেন। আমাদের বিয়ের সাক্ষী ছিলেন বাচ্চু আঙ্কেল।’

১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন সাদেক বাচ্চু। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল তৎকালীন কুমিল্লা জে’লার চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে। তার আসল নাম মাহবুব আহমেদ সাদেক। হাজীগঞ্জ উপজে’লার ১০নং গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম দেশগাঁও আতাউদ্দিন সর্দার বাড়ীর মৃ’ত নূর মোহাম্দ এর ছেলে তিনি।

গ্রাম থেকে স্বাধীনের পর পরই ঢাকায় উঠেন। ৬ বোনের এক ভাই ছিলেন সাদেক বাচ্ছু। বাড়িতে কবরের জায়গা ছাড়া তেমন কোন সম্পদ নেই। বরণ্য এ অভিনেতাকে ঢাকায় মাটি দেওয়া হয়েছে বলে জানান গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন বাচ্ছু।

তার মৃ’ত্যুর খবরে গ্রামের বাড়ীতে শোকের মাতাম দেখা যায়। তিনি সাদেক বাচ্চু মঞ্চনামে সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিতি লাভ করলেও মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশনে অভিনয় করেছেন।

সাদেক বাচ্চু নিজের ভাই-বোনদের মানুষ করতে গিয়ে মাত্র ১৫ বছর ৭ মাস বয়সে চাকরি নেন। বিয়ে করেন ৪০ বছর বয়স পেরিয়ে গেলে। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষ’ম ব্যক্তি ছিলেন সদ্যপ্রয়াত অভিনেতা সাদেক বাচ্চু।

সাদেক বাচ্চুর স্ত্রী শাহনাজ জানান, ‘ডাক বিভাগের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর কিছু টাকা সঞ্চিত হয়েছিল। কিন্তু সাত বছর আগে ২০১৩ সালে ব্রেনস্ট্রোকে আ’ক্রান্ত হয়ে লা’ইফ সাপোর্টে ছিলেন ৯ দিন। সে সময় ৩০ লাখ টাকা বিল দিয়ে তাকে সুস্থ করে নিয়ে এসেছিলাম।

তখন পেনশনের সব টাকাই শেষ হয়ে যায়। সংসার চলছিল ওনার পেনশনের টাকায়। অ’ভিনয়ের পারিশ্রমিক কিছুটা সহায়তা করেছে। এখন আমি বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যাব?’

গত ১২ সেপ্টেম্বর সাদেক বাচ্চুর শারীরিক অ’বস্থা সং’কটাপন্ন হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। লা’ইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় এর দু’দিন পর তার মৃ’ত্যু ঘটে। তিনি ক’রোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত ছিলেন।