বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের কারণ জানাল ভারত

পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারত। দেশের তিনটি প্রধান স্থলবন্দর দিয়ে সোমবার ভারত থেকে কোনো পেঁয়াজ আসেনি। তবে পেঁয়াজ আসা কেন বন্ধ হলো এ বিষয়ে সকাল থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ কেউ বলতে পারেননি। দেরিতে হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে পেঁয়াজ

রপ্তানি বন্ধের খবর জানিয়েছে ভারত। গতকাল সোমবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হলো, বিদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের মহাপরিচালক অমিত যাদব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়,

১৯৯২ সালের ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সবধরনের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকবে। তবে পেঁয়াজের কাঁটা টুকরা ও গুঁড়া এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে ভারত নিজ দেশের বাইরে পিঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ

এজেন্ট শংকর দাস জানিয়েছিলেন, কয়েকদিন ধরে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ভারতের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হওয়া অঞ্চলগুলো তলিয়ে গেছে। এছাড়া সেখানকার বাজারে পিঁয়াজের দামও বেড়েছে। নিজ দেশে পেঁয়াজের দাম ঠিক রাখতেই হয়তো তারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার কল্যাণ মিত্র চাকমা জানান, ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের

কোনো নির্দেশনার খবর তিনি জানেন না। সেসময় একই কথা বলেছিলেন ভোমরা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার পারভেজ আমানও। গত বছরও ভারত হুট করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছিল। এতে বাংলাদেশে পিঁয়াজের দাম বেড়েছিল হুহু করে। সেসময় খুচরা বাজারে রেকর্ড ৩০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। এবার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পরপরই দেশের খুচরা বাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছে। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে। আর দেশি পিঁয়াজের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা।