দীর্ঘ দিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে স্ত্রীর হাতে খু’ন

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে স্ত্রীর হাতে স্বামী খু’ন হওয়ার অ’ভিযোগ উঠেছে। পুলিশ অ’ভিযুক্ত স্ত্রী কুলসুমা সিদ্দিকা প্রিয়াকে (৩০) আ’টক করেছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার নাঙ্গলমোড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খু’ন হওয়া স্বামীর নাম সেলিম উদ্দিন (৪৫)।

তিনি নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে ৪নং ওয়ার্ড হেদায়াত আলীর বাড়ির ম’রহুম রাজা মিয়ার ছোট ছেলে। ২০০৭ সালে সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। সেলিম-প্রিয়া দম্পত্তির ঘরে নূর আলিফ (১২) এবং ফাহিম উল্যা নুর হসিব (১০) নামে তাদের দুটি সন্তান আছে। স্ত্রীর বাবার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে। জানা গেছে,

শনিবার রাতে স্ত্রীর হাতে লা’ঠির আ’ঘাতে গু’রুতর আ’হত হয় স্বামী সেলিম। পরে স্থানীয়রা তাকে উ’দ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে নি’হতের পরিবার লা’শ দা’ফনের প্রস্তুতি নিলে এলাকাবাসী বা’ধা দেয়। এলাকাবাসী ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে হ’ত্যাকান্ডের বিষয়টি প্রশাসনকে জানায়। অন্যদিকে স্ত্রীও তাকে

মা’রধর করা হচ্ছে বলে জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে। রোববার বিকালে পুলিশ গিয়ে নি’হতের লা’শ উ’দ্ধার করে ম’য়না ত’দন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ম’র্গে পাঠায় এবং স্বামী হ’ত্যার অ’ভিযোগে স্ত্রীকে আ’টক করে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রবাসজীবনের দীর্ঘ সময় কা’টিয়ে দুবছর আগে দেশে ফিরে সেলিম। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। স্বামীকে শারীরিক ও মা’নসিক নি’র্যাতন ও ঘরে ঢু’কতে না দেয়ার অ’ভিযোগ ছিল।

স্বামী নিজ ঘরে ঢু’কতে না পেরে বাড়ির উঠানের পাশে একটি ছোট্ট কুটিরে বসবাস করে আসছে। এসব নিয়ে বেশ কয়েকবার সামাজিকভাবে বৈঠক করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। পরে সাত মাস আগে আ’দালতের মাধ্যমে স্ত্রী প্রিয়াকে ডি’ভোর্স দেয় সেলিম। ডি’ভোর্সের পরেও স্বামীর ঘরটি দখলে রেখে অবস্থান করে স্ত্রী। দী’র্ঘদিন অ’মানবিক নি’র্যাতন, অ’নাহার-অ’র্ধাহারে থাকা সেলিমকে সাত দিন আগে চট্টগ্রাম নগরীর জুবলি রোডে একটি হার্ডওয়ারের দোকানে চাকরি দেয় ছোট বোন পারভিন আক্তারের স্বামী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে সেই দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পরই স্ত্রীর
লা’ঠির আ’ঘাতে মা’রা যান সেলিম। স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান,

দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক ক’লহ চলে আসছে এবং তিনি শুনেছেন স্ত্রীর লা’ঠির আ’ঘাতে স্বামীর মৃ’ত্যু হয়েছে। নি’হতের ছোট বোন পারভিন আক্তার বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমার ভাই আমাকে ফোন দিয়ে চিৎকার এবং কান্না করে বলেন, আমাকে মে’রে ফেলতেছে, পারলে আমাকে বাঁ’চা বোন, আমাকে বাঁ’চা, আমাকে খুব মা’রছে। ভাই কথাগুলো বলার সময় ভাবির (প্রিয়ার) আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। তখনই আমরা শহর থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা করি। রাত সোয়া একটার দিকে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে আমার ভাইয়ের নি’থর দেহটি পড়ে আছে দেখতে পাই। নি’হতের বড় বোন, ভাগিনা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা স্ত্রীর পর’কীয়ার কারণে সেলিমের প্রাণ গেছে দা’বি করে এ হ’ত্যাকান্ডের বি’চার দাবি করেন। হাটহাজারী থানার ওসি মাসুদ আলম জানান, ঘটনায় অ’ভিযুক্ত স্ত্রীকে আ’টক করা হয়েছে। মা’মলা প্রক্রিয়াধীন।