ফের বেরিয়ে এলো ওসি প্রদীপের ভয়াবহ নৃ’শংসতার আরেক তথ্য- বিস্তারিত………

পুলিশের নানা অনিয়মের অগনিত সংবাদ প্রকাশ করায় ঢাকা থেকে টেকনাফে ধরে নিয়ে চোখে মরিচের গুড়া দিয়ে নি’র্যাতন করায় মোস্তফার চোখে দুনিয়ার আলো আজ শুধু স্বপ্ন। ক্র’স ফা’য়ারের ভয়ে রাতের আধারে কক্সবাজার থেকে পালিয়ে আসা

ফরিদুল মোস্তফার জীবন আজ নিস্তেজ। অসহায় স্ত্রী, সন্ত্রান, পিতা-মাতাও আজ অসহায়। দোষ একটাই পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ লিখতো মোস্তফা। অ’ন্ধপ্রায় চোখ, ডানা হাত ভাং’গা, আঙ্গুল থে’তলানো মোস্তফা বুঝি আর সাংবাদিকতা করতে পারবেনা তবে অন্ধরাও লেখে,

পথচলে, খায়ঘুমায়। মা’দকের ‘মি’থ্যা’ মামলায় ১১ মাস ধরে কারাগারে আছেন। তবে অবাক করা বিষয়, তাকে জামিনে ছাড়াতে পরিবারের কোনো উদ্যোগ নেই। এর কারণ কোনো পারিবারিক অন্তর্কলহ নয়। ওসি প্রদীপের ‘ক্র’সফায়ারের’ ভয়ে কারাগারকেই নিরাপদ মানছে ফরিদুলের পরিবার। এই সাংবাদিকের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে

বেরিয়ে এসেছে এমন ভ’য়ঙ্কর তথ্য। সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। ‘কক্সবাজার বাণী’ পত্রিকার সম্পাদক তিনি। ফরিদুলের ওপর এমন নি’র্যাতনের বিস্তারিত জানতে সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীদের একটি দল শিগগিরই ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। জানা যায়, সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করেছেন টেকনাফ

থানার সদ্য সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস। ক্ষ্যাপা এই ওসির রোষানল থেকে বাঁচতে কক্সবাজার থেকে পালিয়ে রাজধানীর পল্লবীতে আশ্রয় নিয়েছিলেন ফরিদুল। কিন্তু সেটা টের পেয়ে কোনো পরোয়ানা ছাড়াই ঢাকা থেকে তাকে ধরে নেয়া হয় টেকনাফ থানায়। সেখানে তিন দিন আটকে রেখে তার ওপর চলে অমানুষিক নি’র্যাতন। পরে ‘মি’থ্যা’ মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয় সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানকে।

গত বছর বাংলাদেশ ক্রা’ইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফরিদুল মোস্তফার স্ত্রী হাসিনা আক্তার লিখিত বক্তব্যে উপরি-উক্ত এসব অ’ভিযোগ করেন। তিনি জানান, ‘তার স্বামী বিভিন্ন সময় টেকনাফ থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের নানা অ’নিয়ম ও দু’র্নীতির সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এ কারণে তাকে ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর পল্লবী থেকে ধরে নিয়ে শারীরিক নি’র্যাতন

করে মি’থ্যা মামলায় ফাঁ’সানো হয়েছে। সে সময় তার চোখে মরিচের গুঁড়া দিয়ে নি’র্যাতন করায় তার দুটি চোখই ন’ষ্ট হওয়ার পথে। এ ছাড়া তার হাত-পা ভে’ঙে দিয়েছে পুলিশ। চিকিৎসক জানিয়েছেন তার একটি চোখ পুরোপুরি ন’ষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফরিদুল মোস্তফার মেয়ে সুমাইয়া মোস্তফা খান বলেন, ‘তাদের পরিবারের কেউ কোনো মামলার আসামি নয়। কখনো তারা কোনো অনিয়মে জড়াননি। এর পরও পুলিশ ঠাণ্ডা মাথায় তার বাবাকে মামলা দিয়ে

সমাজে তাদের পরিবারকে হেয় করেছে।’ পরিবারের আশঙ্কা, জেল থেকে বের হলেই তাকে ক্র’সফায়ারে দেয়া হতে পারে। এমন হুমকি ওসি প্রদীপ দিয়েছিলেন বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা। এদিকে ওসি প্রদীপের রো’ষানলে পড়ে নি’র্যাতনের শি’কার সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীদের একটি দল কক্সবাজারে যাচ্ছে। এই দলে সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতা, আইনজীবী, প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তারা রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফরিদুল দীর্ঘ ১১ মাস কারাগারে রয়েছেন,

তবে কেন এত দিনেও তিনি বের হননি কী কারণে বের হননি- এসব ঘটনার সবিস্তার জানতেই কক্সবাজারে যাচ্ছে দলটি। জেলগেটে তার শারীরিক অবস্থারও খোঁজখবর নেবেন তারা। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, পুলিশের নানা দু’র্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে ‘কক্সবাজার বাণী’ পত্রিকার সম্পাদক সাহসী সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফাকে মা’দক মামলায় ফাঁ’সানোর অ’ভিযোগ উঠেছিল টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে। গ্রেফতারকালে পুলিশের কাজের বি’রুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি স্থানীয় অনেক সাংবাদিক। তবে তারা সাবেক মেজর সিনহা হ’ত্যাকাণ্ডের পর ওসির বি’রুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন।