যার নির্দেশে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা’কে গু’লি করেন ই’ন্সপেক্টর লিয়াকত আলী”

টেকনাফের বাহারছড়ায় চেকপোস্টে পুলিশের গু’লিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নি’হতের ঘটনায় ৯ জনকে আ’সামি করে মা’মলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার বেলা ১২টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস মা’মলাটি দায়ের করেন।

আর্জি শুনানিকালে শারমিন হতবিহ্বল, শো’কাহত অবস্থায় ছিলেন।মা’মলায় সদ্য প্র’ত্যাহার হওয়া এসআই লিয়াকত আলীকে এক ও টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশকে দুই নম্বর আ’সামি করে ৯ জনকে আ’সামি করা হয়।

টেকনাফের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদি শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস অভিযোগ করেছেন, টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাসের নির্দেশে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত

মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে গু’লি করেছেন পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী।তিনি শু’নানির পর আদালত প্রাঙ্গনে সাংবাদিকদের বলেন, গু’লির কিছুক্ষণ পর ওসি প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থলে আসেন।

তিনি এসেই তখনো জীবিত থাকা মেজর সিনহাকে উদ্দেশ করে অ’কথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার শরীরে লা’থি মা’রেন। মৃ’ত্যু নিশ্চিত হলে একটি ‘ছারপোকা’ (মিনি ট্রাক) গাড়িতে তুলে মেজর সিনহাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছরা পুলিশ চেকপোস্টে মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে গু’লি করে হ’ত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ৯ পুলিশ স’দস্যকে আ’সামি করা হয়। ওই মা’মলায় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) লিয়াকত আলীকে প্রধান আ’সামি ও টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশকে দুই নাম্বার আ’সামি করা হয়েছে।

অন্যান্য আসামিরা হলেন বাহারছরা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এএসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।

তবে, ওই মা’মলায় মোট ৯ আ’সামির তালিকায় পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের নাম নেই। মা’মলাটি ‘ট্রিট ফর এফায়ার’ হিসেবে আমলে নিয়ে ৩টি আদেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতের দেয়া আদেশে পুলিশকে বলা হয়েছে, মা’মলাটি নি’য়মিত মা’মলা হিসেবে রেকর্ড করতে।

দ্বিতীয় আদেশে বলা হয়, মা’মলাটি রেকর্ডের পর এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) মা’মলাটি তদন্ত করবে।

আদালতের তৃতীয় আদেশে বলা হয়, আগামি ৭ কার্যদিবসের মধ্যে মা’মলার অগ্রগতি আদালতকে অবহিত করতে হবে।

মা’মলার বিবরণে বলা হয়েছে, ৩১ জুলাই রাতে একটি ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিও চিত্র ধারণ শেষে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে মেজর (অব:) সিনহা মো: রাশেদ খান নিজস্ব প্রাইভেট কার নিয়ে টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে পৌছলে ১নং আ’সামি লিয়াকত ও ৩নং আসামি এসআই নন্দ দুলাল র’ক্ষিত গাড়ি গতিরোধ করে মেজর সিনহা পরিচয় দেয়। এরপরও সিনহার সঙ্গে থাকা ক্যামরাম্যান সিফাতকে টানা হে’চড়া করে গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেলে। এসময় সিফাত দুই হাত উচু করে গাড়ী বসে থাকা সিনহার পরিচয় দেয়। পরিচয় দেয়ার পরও অ’কথ্য ভাষায় গা’লিগালাজ করে। ‘তোর মত অনেক মেজর দেখেছি’ বলে সিনহাকেও গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেলে। মুহূর্তে কয়েক রা’উন্ড গু’লি করলে সিনহা মাটিতে পড়ে যান। এসময় মেজর সিনহা জীবন রক্ষার্থে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাকে চেপে ধরে পুনরায় মাটিতে ফেলে দেয়।

এজহারে বলা হয়, মৃ’ত্যু নিশ্চিত করার জন্য ১নং আ’সামি এসআই লি’য়াকত আরো এক রা’উন্ড গু’লি করে। মৃ’ত্যু নিশ্চিত করে টেকনাফ থানা পুলিশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করে।

সিনহার মৃ’ত্যুর ঘটনাটি ধা’পাচাপা দেয়ার জন্য ই’য়াবা, গা’জা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনে দুটি মা’মলা দায়ের করা হয়।