এসব নিয়ম মানতে ভুল হলেই থাবা বসাতে পারে করোনা

বিশ্বজুড়ে ক্রমেই চিন্তা বাড়ছে কোভিড-১৯-কে নিয়ে, যার ডাক নাম করোনা ভাইরাস। চীনের উহানে প্রথম ধরা পড়লেও মহামারীর মতো এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা দেশে। রোখার কোনও উপায় না পাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর হচ্ছে চিকিৎসকদের।

নিজেদের সতর্কতার জন্যই জেনে রাখা দরকার এই অসুখের ছড়িয়ে পড়ার পদ্ধতি ও উপসর্গ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে জানলেই অনেকটা রোখা যাবে এই ভাইরাসকে। চিকিৎসকরা বলছেন, নাক-মুখ দিয়েই মূলত এই ভাইরাস প্রবেশ করে। এর পর শ্বসনতন্ত্রের (রেসপিরেটরি সিস্টেম) যেকোনও একটি কোষকে টার্গেট করে সে। সেই কোষটিই তখন হয়ে ওঠে ‘হোস্ট সেল’।

উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে ফুলেফেঁপে ওঠে হোস্ট সেল। অবশেষে এই হোস্ট সেল ফেটে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে দেহে। করোনার উপসর্গ: ১. এই ভাইরাসের প্রধান ও অন্যতম উপসর্গ একটানা সর্দি-কাশি ও বুকে কফ জমে থাকা। তবে যেকোনও সাধারণ সর্দি-কাশিতে ভয়ের তেমন কিছু নেই। তখনই সচেতন হতে হবে, যখন কোনও ওষুধেই শ্লেষ্মাজনিত সমস্যা সারছে না। সেক্ষেত্রে পলিমারেস চেন রিঅ্যাকশন বা ‘পিসিআর’ পরীক্ষা করে এই ধরনের

ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কিনা দেখা হয়। ২. সর্দি-কাশির সঙ্গে জ্বরও থাকতে পারে এ ভাইরাসের কারণে। ৩. সারাক্ষণ নাক দিয়ে সর্দি পড়ার সঙ্গে শ্বাসকষ্টও এই অসুখের অন্যতম উপসর্গ। ৪. বুকে কফ জমে যাওয়া, মাথা যন্ত্রণা, গলাব্যথা তো থাকেই। এর সঙ্গে শ্লেষ্মাজনিত অসুখ বেড়ে নিউমোনিয়া ডেকে আনে। তা বাড়তে বাড়তে সিভিয়ার নিউমোনিয়ার দিকে বাঁক নিতে পারে। করোনা থেকে বাঁচতে কী করব? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এই করোনা ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।

১. যেকোনও খাবার মূলত মাছ-মাংস ভাল করে ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ফ্রিজেও এই ভাইরাস বেঁচে থাকে। তাই যে কোনও খাবার খুব ভাল করে গরম করে ও ফুটিয়ে খান। ২. ফ্রিজে রান্না করা তরকারি ও কাঁচা তরকারি একসঙ্গে রাখবেন না। নিয়মিত ফ্রিজ পরিষ্কার করুন। ৩. বাদুড়ে খাওয়া ফল বা খুঁত আছে এমন ফল খাবেন না। দীর্ঘসময় কেটে রাখা ফলও এড়িয়ে চলুন। ৪. মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। তবে যে কোনও মাংসই খুব ভাল করে পরিষ্কার করে ও সুসিদ্ধ করে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ৫. প্যাকেটজাত ইমপোর্টেড মাংস আপাতত না

কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ৬. সর্দি-কাশি এমনিতেই সংক্রামক অসুখ। করোনা-আতঙ্কের সময় তাই এ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। দীর্ঘদিন সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত এমন মানুষ থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন অন্তত এক মিটার। বাড়িতে এমন কেউ থাকলে তার ব্যবহৃত জিনিসও আলাদা করে রাখুন। ৭. রাস্তাঘাটে বেড়িয়ে কোন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আক্রান্ত যেহেতু তা বোঝার উপায় নেই, তাই রাস্তায় বেরলেই মাস্ক ব্যবহার করুন। তবে, সাধারণ মাস্ক নয়, ত্রিস্তরীয় নীল বা সবুজ রঙের মাস্ক যা কেবলমাত্র ওষুধের দোকানে কিনতে পাওয়া যায়। ৮. ডিসপোজাল মাস্ক পরুন। মাস্ক ভিজে গেলে ও গোটা এক দিন ব্যবহার হয়ে গেলে তা বদলে ফেলুন।

হাত ধোয়ার কোনো বিকল্প নেই: বাইরে থেকে ফিরে খুব ভাল করে কনুই পর্যন্ত হাত ধুয়ে নিন। আঙুলের ফাঁক, নখের কোনা, হাতের উপরিভাগ সবটাই ভাল করে ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুক্ষণ হাত উঁচু করে রাখুন। ইথাইল অ্যালকোহল বা পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিয়ে হাত ধুতে পারেন। তবে সাবান দিয়ে ভাল করে পরিষ্কার করে নিলেও হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাত না-ধুয়ে শুধু স্যানিটাইজার ব্যবহার করলেই হাত থেকে সব ভাইরাস ও ব্যাকটিরিয়া তাড়ানো যায় না। তাই যখন হাত ধোয়ার জন্য আপনার কাছে একেবারেই পানি নেই, শুধুমাত্র তখনই শুধুমাত্র স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। একইসঙ্গে, হাত সাবান দিয়ে ধুলেই যে আপনার হাতের সব জীবাণু উধাও হয়ে যাবে, তাও সঠিক নয়। হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম : ১. পরিষ্কার রানিং

ওয়াটারে হাতটা প্রথমে ভিজিয়ে নিন। এবার কনুইয়ের সাহায্যে কলটা বন্ধ করুন। হাত দিয়ে কল বন্ধ করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। ২. সাবানের সাহায্যে হাতে-আঙুলে ফেনা তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন, ফেনা যেন হাতের পেছন দিক, আঙুলের ফাঁক ও নখের নিচ পর্যন্ত পৌঁছায়। ৩. অন্তত ২০ সেকেন্ড দু’হাত ঘষা জরুরি। এর ফলে হাতের ময়লা, ত্বকের মাইক্রোবগুলি ওঠে যায়। ৫. কতক্ষণ ধরে হাত ধোবেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাত ধোয়ার সময় হ্যাপি বার্থ ডে গানটা দুবার গান। সেই সময় ধরেই হাত ধুতে হবে। ৬. হাত ঘষে ধোয়া শেষ হলে ফের পরিষ্কার রানিং পানিতে হাত ধুয়ে ফেলুন। ৭. শুধু নিজে ব্যবহার করেন, এমন পরিষ্কার তোয়ালে নিয়ে হাতটা মুছে নিন বা এয়ার-ড্রাই করে নিন। এসব নিয়ম মেনে চলুন, সুস্থ থাকুন। সতর্ক থাকুন।