পশু নয়,নিজ সন্তানকে কুরবানি দিতে হবে:বিজেপি নেতা- উদ্বেগের মধ্যে ভারতে মুসলিমরা

আগামী শনিবার (১ আগস্ট) পালিত হবে ঈদুল আজহা। ভারতে মুসলিমরা করোনার মধ্যে এবং ধর্মীয় কারণে কীভাবে ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং কীভাবে কোরবানি করবেন তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

এমন অবস্থায় বিতর্কিত মন্তব্য করলেন দেশটির উত্তর প্রদেশ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় থাকা দলের সাংসদ। কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে বিতর্কের সুত্রপাত হয় নন্দকিশোর গুর্জর নামের এক বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যে।

গাজিয়াবাদের লোনি কেন্দ্রের ওই বিধায়কের দাবি, ‘করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এ বছর ঈদে কুরবানি দেয়া উচিত নয় মুসলিমদের। আর নেহাতই যদি কুরবানি দিতে হয়, তাহলে নিজের সন্তানকে দিন। নিরীহ পশুগুলোকে মারবেন না।

বিজেপির ওই বিধায়ক নিজের অনুগামীদের বলছিলেন, ‘যেভাবে সনাতন ধর্মে এখন আর বলি দেয়া হয় না। নারকেল ফাটিয়ে আমরা বলিদানের রীতি পালন করি। সেভাবেই মুসলিমদের আমি বলবো, করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এ বছর কুরবানি বন্ধ রাখুন।

নিরীহ পশুগুলোকে মারবেন না। ঈদে কাউকে কুরবানি দিতে দেখা গেলেই কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যদি কেউ ভেবে থাকেন, না আমি কুরবানি দেবই। তাহলে নিজের প্রিয় জিনিস, নিজের সন্তানকে কুরবানি দিন। আমাদের কোনও আপত্তি নেই।

এরআগে করোনা ও লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির এমপি শফিকুর রহমান ঈদে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘ঈদুল আজহায় মুসলিমদের ঈদগাহ এবং মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া উচিত। মুসলিমরা যাতে কোরবানির পশু ক্রয় করতে পারে সেজন্য ঈদে পশু বাজার খোলার দাবিও জানিয়েছিলেন তিনি।’ পাল্টা জবাবে বিজেপি নেতা ও সাংসদ সঙ্গীত সোম তাকে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়ে বলেন, ‘যেভাবে আজম খান (সমাজবাদী পার্টির নেতা) কারাগারে ঈদ পালন করেছেন, ওনাকেও ঈদ কারাগারে পালন করতে হবে।’