ইডেন কলেজের সামনে রাতে পথচারী না’রীকে বি’বস্ত্র করে পে’টালো ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ৩ নেত্রী

হি’জড়া বলে ডাকার প্র’তিবাদ করায় এক পথচারী না’রীকে মা’রধরের অ’ভিযোগ উঠেছে ইডেন কলেজ ছা’ত্রলীগের তিন নেত্রীর বি’রুদ্ধে। অভিযোগ ওঠা ওই তিন নেত্রীর নাম- সুস্মিতা বাড়ৈ, সোনালী আক্তার এবং জোতি সাহা।

জানা যায়, মা’রধরের শি’কার হওয়া ঐ ভু’ক্তভোগী না’রীর নাম আনিকা। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ৮টার পর তিনি ইডেন কলেজের বিপরীতে অবস্থিত খাবারের দোকানের (ফুড কর্নার) সামনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাকে ‘হিজড়া’ বলে সম্বোধন করেন রাস্তার পাশে আড্ডায় থাকা ইডেন কলেজের ছা’ত্রলীগের তিন নেত্রী।

এ নিয়ে ভু’ক্তভোগী প্র’তিবাদ করলে ইডেনের ওই তিন শি’ক্ষার্থী ছা’ত্রলীগের পরিচয়ে তাকে হু’মকি দিয়ে মা’রধর করেন। পরে ভু’ক্তভোগী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি তুলে ধরেন। যদিও মা’রামারির বিষয়টি অস্বীকার করে সুস্মিতা বাড়ৈ বলেন, ‘ঐ না’রীর গা’য়ে কেউ হা’ত দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে ভু’ল বোঝাবুঝি হয়েছে।’

ভু’ক্তভোগী ঐ না’রীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে কি হয়েছে কেউ না দেখলে বুঝবে না। আমি হেঁটে যাচ্ছি ওরা তিনজন আমাকে দেখে বলে দেখ হিজড়া যাচ্ছে। ওই সময় প্র’তিবাদ করাটা ছিল আমার অ’পরাধ। তাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো বি’রোধ নেই। তাঁদেরকে আমি চিনিও না। পরে সুস্মিতা আমাকে কল দিয়ে বলে যে আপু বিষয়টি নিয়ে ভু’ল বোঝাবুঝি হয়েছে, যাতে আমি এটা কাউকে না জানায়।’

আনিকা আরও বলেন, ‘ফেসবুকে অনেকে হু’মকি দিচ্ছে স্ট্যাটাস ডিলিট করার জন্য, আমি করিনি। বলছে ছা’ত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক দাদা বিষয়টি সমাধান করে দেবে। কিন্তু কারো কাছ থেকে কোন সান্ত্বনা পাচ্ছি না।’ অ’ভিযুক্তদের বি’রুদ্ধে থানায় কেন অ’ভিযোগ করেননি? আনিকা বলেন, ‘থানায় অ’ভিযোগ করলে হয়তো তাদের দলীয় সং’গঠনের লোকের দ্বারা আরও হ’য়রানির শি’কার হব, তাই অ’ভিযোগ করিনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইডেন কলেজের কয়েকজন শি’ক্ষার্থী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘আমরা বন্ধুবান্ধব নিয়ে ওইখানে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন দেখি কয়েকজনের মে’য়ের মধ্যে হা’তাহাতি হচ্ছে। পরে অনেক লোকজন জড় হয়েছিল সেখানে। তবে কী নিয়ে হয়েছিল তা জানা নেই।

ভু’ক্তভোগী ঐ না’রীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘আমি আনিকা… ইডেন কলেজের সামনের কলোনি দিয়ে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলাম। তখন একটা মেয়ে আমাকে হি’জড়া বলে ডাক দেয়, তখন আমি তার কাছে বললাম আপনি আমাকে হিজড়া বললেন কেন? তখন তার সাথে থাকা মেয়েসহ আমার দিকে তে’ড়ে আসে, এবং আমাকে অ’কথ্য ভাষায় গা’লিগালাজ করে।

আমি যখন বলি, আপনারা এইরকম ব্যবহার কেন করছেন… তখন বলে আমরা ইডেন কলেজে পড়ি, ছাত্রলীগ করি, লেখক দার (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছা’ত্রলীগ) সাথে রাজনীতি করি। এই বলে আমাকে গা’লাগা’লি আর মা’রধর করে চু’ল ধরে একে অপরের নাম নেয় তখন আমি ওদের নাম শুনতে পাই। ওরা ছিল সুস্মিতা বাড়ৈ, সোনালী আক্তার এবং জোতি সাহা।

ওরা আমাকে মা’রতে মা’রতে মাটিতে শু’য়ে ফে’লে এবং আমার ওড়না টে’নে ফে’লে দেয় আমাকে বি’বস্ত্র করে ফে’লে….. বলে পোলাপাইন ডাক ওরে মা’ইরা ‘ফেল…. কেউ আমাকে বাঁ”চাতে আসেনি… এটা কি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ? যে দেশের একটি সাধারণ মে’য়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে পারবে না। জাতির কাছে প্রশ্ন…!!!! আজ আমি একা বলে বি’চার পেলাম না…..বিচার চাই…..

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইডেন কলেজের ছা’ত্রলীগ নেত্রী সুস্মিতা বাড়ৈ বলেন, ‘আমরা বান্ধবীরা কলেজের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এ সময় এক বান্ধবী আরেক বান্ধবীকে মজা করে বলছিল এই তোকে আজ হিজড়াদের মতো লাগছে। এই সময় ওই মহিলা পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তখন ওই মহিলা এসে বলে থা’পড়াইয়া দাঁ’ত ফে’লে দেব। তখন আমরা বললাম আপনি থা’পড়াইয়া দাঁত ফে’লে দেবেন কেন? তখন সে বলে আমরা নাকি তাকে হিজড়া বলেছি।

এই নিয়ে আমাদের কথা কা’টাকা’টি হয়। পরে লেখক দাদা ( ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক) আমাকে ফোন দিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চায়। লেখক দাদাকে বিস্তারিত বলার পর দাদা ওই ম’হিলার ফোন নম্বর আমাকে দেয়। পরে আমি ওই ম’হিলাকে ফোন দিয়ে সরি (দুঃখিত) বলেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘ওই ম’হিলাকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি না। আর ওই ম’হিলার সাথে ত’র্কের বেশি কিছু হয়নি।’ তবে লেখক ভট্টাচার্য ভু’ক্তভোগী ঐ না’রীর বিষয়ে কীভাবে জানতে পেরে আপনাকে ফোন দিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সুস্মিতা বাড়ৈ বলেন, ‘ওই ম’হিলা হয়ত দাদাকে (লেখক ভট্টাচার্য) ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪