ক্যানসারের চিকিৎসা করাতে এসে ফ্লাইওভারের নীচেই রাত কা’টাচ্ছেন অভাবী রোগীরা

ক্রমশ বাড়ছে ক্যানসারের মতো মা’রণ রোগ। ফলে দেশের যেকোনও ক্যানসার হাসপাতালগু’লিতে তিল ধারণের জায়গা নেই। ভারতের অন্যতম ক্যানসার হাসপাতালগু’লির মধ্যে টাটা মেমোরিয়াল এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় একটি প্রতিষ্ঠান।

রোগী ও রোগীর পরিবারের ধারণা, মুম্বইয়ের টাটা হাসপাতালে গেলে মিলবে সঠিক চিকিত্‍সা। তথ্য বলছে, প্রতিবছর ৬৫ হাজার ক্যানসার আক্রান্ত নতুন রোগী আসেন এখানে। এছাড়া ৪ লক্ষ ৫০ হাজার রোগী আসেন ফলো-আপ করাতে।

সারা দেশ তো বটেই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকেও আসেন মা’রণরোগের চিকিত্‍সা করাতে। তবে মুম্বইয়ের প্যারলে হাসপাতালের বাইরে হিন্দমাতা ফ্লাইওভারের নীচে চোখে পড়বে বহু কর্কটরোগীকে। সকলেই যে বিত্তবান তা নয়, বহু দরিদ্র পরিবার আসেন চিকিত্‍সা করাতে। তবে এত রোগীর ভিড়ের মধ্যে জীবন বাঁ’চাতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন খোলা আকাশের নীচে।

ব্যস্ত শহরের এই এলাকায় ১০০-র বেশি রোগী ও রোগী পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। সামনে দিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে বাস-ট্রাক-লড়ি। আব্রু বা লজ্জাকে ছেড়ে ফেলে প্রকাশ্যেই জামাকাপড় ছাড়ছেন রোগীরা। ধুলোয় মাখা জামাকাপড় পড়েই ঘুমাচ্ছেন রোগীরা।

বলতে গেলে সংসার পেতে ফেলেছেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে একজন ২৫ বছরের সুখবীর। গ্যাস্ট্রো-ইনটেস্টিনাল ক্যানসারে আক্রান্ত সে। তবে অ’পারেশনের পর সে এখন ক্যানসার মুক্ত। উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া থেকে এসেছেন এখানে। গত ২৮ ডিসেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও বাড়ি যেতে পারেননি তিনি। কারণ, টাকা অভাব। বাড়ি ফিরে গেলে ফের টাকা খরচ করে এখানে আসতে হবে ফলো-আপের জন্য।

হাসপাতালের চিকিত্‍সকরা জানিয়েছেন, ইনফেকশন এড়াতে সব সময় বাইরের ধুলো-বালি থেকে দূরে থাকতে হবে তাঁকে। চাই বেড রেস্টও। কিন্তু ঠান্ডা মেঝের মধ্যে একটি মাদুরের মধ্যেই এখন সংসার সুখবীর ও স্ত্রী’ মমতার। সামনেই রয়েছে বিএমসির টয়লেট। সেখানেই সারছেন স্নান ও কৃতকর্ম। সুখবীরই একা নন।

ফ্লাইওভারের নীচে একচিলতে জমি নিয়ে আঁকড়ে বেচে রয়েছেন বহু রোগী ও রোগী পরিবার। কেউ কেউ হয়তো ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত, ওরাল ক্যানসার বা বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে এমন রোগীরও দেখা মিলবে। রয়েছেন সার্ভিক্যাল ক্যানসারের রোগীও। এরা কেউই এখনও পর্যন্ত বাড়ি যাননি। উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ থেকে চলে এসে মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়ালের বাইরের ফ্লাইওভারই এখন এঁদের বর্তমান ঠিকানা।

ও জরুরী সিডিউলের জন্য প্রতি সপ্তাহ বা প্রতিমাসেই তাঁদের একবার করে হাসপাতাল যেতে হয়। এঁদের প্রত্যকেরই আর্থিক অবস্থা শোচনীয়। ফ্রি বেড পাওয়ার জন্য বসে থাকতে হয় হাপিত্যেস করে। শহরের কোনও ধরমশালায় মা’থাপিছু ১০০টাকা করে বাড়া দেওয়ারও ক্ষমতা নেই তাঁদের। ফ্রি পরিষেবা পাওয়ার জন্য রয়েছে লম্বা লিস্ট। ফলে জীবন বাঁ’চাতে ফ্লাইওভারের নীচে এক ইঞ্চি ফাঁকা জায়গা পাওয়ার জন্য লাইন লেগে গিয়েছে সম্প্রতি।

ক্যানসার রোগীদের জন্য শহরে পাঁচটি ধরমশালা রয়েছে। বান্দ্রায় ড. এরনেস্ট বর্জেশ হোমে মোট ৩০০ জন রোগী ও তাঁর পরিবারের থাকার জায়গা রয়েছে প্যারেলের নানা পালকার হোমে রয়েছে ১৫০জন রোগীর থাকার ঘর। প্রতিদিন ৩০-৫০টাকা দিয়ে ৬০০রোগী থাকতে পারবে এমন ব্যবস্থা রয়েছে দাদারের মহারাজা ধরমশালা ও সিএসএমটি হাইজে। হাসপাতাল ও কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে রোগীদের থাকার জায়গা পাওয়া যায়।