হাজিরা ফাঁ’কি দিতে হাসপাতালের বায়োমেট্রিক মেশিন অচল করল কর্মচারী!

রিয়েল সিলেটঃ হাজিরা ফাঁ’কি দিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বায়োমেট্রিক মেশিন অচল করে দিয়েছেন ওই হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পরিচ্ছনতাকর্মী ফারুক মিয়া।

এজন্য তাকে সাময়িক ব’রখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বি’রুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় অ’ভিযোগ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে একটি সি’রিঞ্জের মাধ্যমে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্ল’কে স্থাপিত বায়োমেট্রিক মেশিনটিতে পানি ঢু’কিয়ে দেয় পরিচ্ছন্নতা কর্মী ফারুক মিয়া।

তিন মিনিট সময়ের মধ্যে কাজ করে স’টকে পড়ে সে। ঘটনাটি হাসপাতালের সি’সি ক্যা’মেরায় ধরা পড়ে। মেশিনটি অচল হয়ে পড়লে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাজিরা দিতে ব্যর্থ হন। এর সপ্তাহখানেক আগেও মেশিনটি একবার অ’চল করা হয়েছিল। তখন কেউ সা’বোটাজ করতে চাইছে কর্তৃপক্ষের এমন স’ন্দেহ হলে প্রশাসনিক ব্ল’কে বায়োমেট্রিক স্থাপিত স্থানে সি’সি ক্যা’মেরা লাগানো হয়।

হাসপাতালের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, অফিস ফাঁ’কি দিতে অসৎ কর্মচারীদের একটি চ’ক্র ফারুকের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক মেশিনটি অ’চল করিয়েছে। রাত্রিকালীন ডিউটি শেষে ফেরার পথে ফারুক প্রশাসনিক ব্লকে ঢুকে মেশিনটিতে সিরিঞ্জ দিয়ে পানি ঢু’কিয়ে দেয়। হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক শওকত হোসেন জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালে কর্মরতরা হা’জিরা দেয়ার জন্যে উপস্থিত হয়ে দেখতে পান মেশিনটি অচল।

এর ভেতর থেকে পানির ফো’টা প’ড়ছে। ভেতরেও পানি আছে বলে বুঝা যায়। পরে আমরা সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখি পরিচ্ছন্নতা কর্মী ফারুক সিরিঞ্জের মাধ্যমে এটিতে সকাল ৫টা ৫৭ মিনিট থেকে ৬টার মধ্যে পানি ঢু’কিয়েছে। ওইদিনই পরিচ্ছনতা কর্মী ফারুক মিয়াকে সরকারি সম্পদ নষ্ট করার অ’পরাধে সা’ময়িক ব’রখাস্ত করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। থানায় ফারুকের বি’রুদ্ধে দেয়া অ’ভিযোগে বলা হয়, হাসপাতালের ভাবমূর্তি ক্ষু’ণ্ন্নসহ সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম বাধা করার চক্রান্তে লিপ্ত ফারুক।

সরকারি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র নষ্ট করার অ’পরাধে তার বি’রুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয় অ’ভিযোগে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ সেলিম উদ্দিন অ’ভিযোগ পেয়েছেন জানিয়েছেন, আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ চেয়েছি। এরপরই এ ব্যাপারে আ’ইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২০১৮ সাল থেকে হাসপাতালটিতে কর্মরত চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী বা’য়োমেট্রিক মেশিনের মাধ্যমে হাজিরা দিয়ে আসছেন। অক্টোবর মাসে নতুন বায়োমেট্রিক মেশিনটি বসানো হয়। মোট ২৮০ জন স্টাফ এই মেশিনের মাধ্যমে হাজিরা দেন।