হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বুদ্ধিমত্তায় ধরা পড়ল দুই ছি’নতাইকারী।

রিয়েল সিলেটঃ মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের না’ন্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের বারান্দায় শুয়ে কা’তরাচ্ছিল এক কিশোর। সাথে মুখ দিয়ে সাদা ফ্যা’না বের হচ্ছিল।

ওই সময় এগিয়ে যান হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন নারীকর্মী নাসিমা বেগম ৩৫। কিশোরের ঈ’শারা-ই’ঙ্গিতে কিছু একটা হয়েছে মনে করে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা দুই ব্যক্তিকে তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারসহ আ’টকে দিয়ে চিৎকার শুরু করেন।

পরে জানা যায় জনতার হাতে ধৃ’ত ওই দুজনই কিশোরটিকে জুসের সাথে চে’তনাশক ঔষুধ মিশিয়ে খাইয়ে ইজিবাইক ছি’নতাই ঘটনার সাথে জড়িত। তাদের সাথে অন্য ছি’নতাইকারী ইজিবাইকটি নিয়ে লা’পাত্তা হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখা যায়,

শতশত জনতার হাতে ধৃ’ত হয়ে গ’ণপিটুনি খাওয়া দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী একটি গ্রি’লের ভিতর আ’টকে রেখেছেন। হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন না’রী কর্মী নাসিমা বেগম জানিয়েছেন, তিনি দুপুরের দিকে বহির্বিভাগে কাজ করছিলেন। ওই সময় দেখতে পান প্যান্ট ও সোয়েটার পরিহিত এক কিশোর বা’রান্দায় শুয়ে গো’ঙ্গানির সাথে সাথে ঈশারা-ইঙ্গিতে কিছু একটা দেখাচ্ছে।

এক পর্যায়ে তার (কিশোর) মুখের কাছে গিয়ে জানতে পারেন পাশেই একটি প্রা’ইভেটকার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দুই ব্যক্তি তাকে কিছু একটা করেছে। এ ঘটনা টের পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি দ্রুত গাড়িতে উঠে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় তিনি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার শুরু করে শুয়ে পড়েন। ওই সময় হাসপাতাল চত্বরেই ক্রিকেট খেলা করছিল আরো বেশ কিছু কিশোর। তারা দৌড়ে এসে গাড়ি আ’টকে দিয়ে দুই ব্যক্তিকে ভিতর থেকে গ’ণপি’টুনি দেয়।

জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকা ইজিবাইচালক জানিয়েছেন, সে উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের আ’তকাপাড়া গ্রামের মো. মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মো. রিয়াদ হোসেন (১৭)। স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি ইজিবাইক চালায়। মঙ্গলবার দুপুরে না’ন্দাইল পৌরশহরের চ’ন্ডীপাশা এলাকায় থাকা অবস্থায় প্রাইভেটকার থেকে নেমে দুই ব্যক্তি তাকে বলেন তাদের সাথে থাকা একজন অ’সুস্থ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে। পরে ৩০ টাকা ভাড়ায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনার পর কথিত রোগী স’টকে পড়ে।

কিন্তু ওই দুই ব্যক্তি তাকে জানায় একটু অপেক্ষা করতে। এ সময় ইজিবাইকে বসেই দুজনে প্রা’ণের ফ্রু’টিকা খাওয়ার সময় একটি বোতল তাকে দেয়। খাওয়ার পর আর চোখ বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। আ’টক হওয়া দুই ব্যক্তি বলেন, তাদের একজনের নাম মো. হাসান ফকির ৩২। তিনি ফরিদপুর জেলার ভা’ঙ্গা উপজেলার ভদ্রকা’ন্দা গ্রামের মৃ’ত আমির ফকিরের ছেলে। অপরজন হচ্ছেন বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার মেহেন্দি গ্রামে।

আব্দুর রশিদের ছেলে মো. আবুল কালাম ৫০। এখানে তারা এসেছিলেন ইয়াসিন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাছ কিনতে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ইয়াসিন হচ্ছে উপজেলা মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের মো. ফরিদের ছেলে। ইজিবাইক চো’র হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। তার নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। না’ন্দাইল থানার ওসি মনসুর আহম্মেদ জানান, এ ঘটনায় মামলার পর ইজিবাইক উ’দ্ধারে ও এ চ’ক্রের সাথে জ’ড়িতদের গ্রে’প্তারের চেষ্টা চলছে।