সিলেটে নেতাদের ছবি ঝু’লছে বিদ্যুতের তারে।

রিয়েল সিলেটঃ- সিলেটে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে পুরো নগরী ছেয়ে গেছে ব্যানার-ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ডে। রীতিমত প্রতিযোগিতা করে লাগানো হচ্ছে ব্যানার, ফেস্টুন, বিল বোর্ড। যে যেখানে পারছেন ব্যানার, ফেস্টুন লাগাচ্ছেন। বাদ পড়েনি বি’দ্যুতের তারও। নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তারে ঝুলছে বিভিন্ন নেতাদের ছবি সম্বলিত ফেস্টুন। ৪৪০ ভো’ল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনেও লাগানো হচ্ছে ব্যানার, ফেস্টুন। এর ফলে যেকোনো সময় দু’র্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। গত মঙ্গলবার রিকাবীবাজার এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটিতে ফেস্টুন লাগতে গিয়ে তৌফিক আহমদ নামে এক যুবক দু’র্ঘটনার শি’কার হন। ওই সময় বি’দ্যুৎস্পৃ’ষ্ট হয়ে তারে ঝুলে যান তৌফিক।

পথচারীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে ফা’য়ার সা’র্ভিসকে খবর দেন। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা পু’লিশকেও খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফা’য়ার সা’র্ভিসের ১২ সদস্যের একটি দল ঘ’টনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। নগরী ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর রিকাবীবাজার, আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন এলাকা, শাহজালাল মাজারের সম্মুখ, তালতলাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বি’দ্যুতের তারে ঝুঁ’কিপূর্ণভাবে ঝুলছে আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবি সম্বলিত ফেস্টুন। সিলেট নগরে বি’দ্যুতের খুঁ’টি ও তারে ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান সিলেট বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অফিসের প্রধান প্র’কৌশলী প্রবীর কুমার দে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের তারে ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো সম্পর্কে আমি অবগত নই। আমি যতদূর জানি বিদ্যুতের তারে ব্যানার, ফেস্টুন লাগানো হচ্ছে না। বিদ্যুতের খুঁটিতে ফেস্টুন লাগতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃ’ষ্ট হয়ে যুবক ঝ’লসে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন। এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন বলেন, বিদ্যুতের তারে ব্যানার ফেস্টুন লাগানো ঠিক হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আমিও শুনেছি। এটা অবশ্যই দুঃ’খ জনক। বিদ্যুতের লাইন একটা স্পর্শকাতর বিষয়। এ বিষয়ে সবার সর্তক থাকা উচিত। সম্মেলন হবে তাই বলে এত ব্যানার, ফেস্টুন কেন লাগাতে হবে? নেতাদেরকে তাদের ক’র্মীদের এ বিষয়ে স’র্তক করা উচিত।

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরীর কোনো জায়গায় ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড লাগাতে হলে সিসিকের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু সিলেট আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো অনুমতি নেননি। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের ট্যাক্সেশন অফিসার মো. রমিজ মিয়া বলেন, আমার জানামতে এসব ব্যানার, ফেস্টুন লাগানোর জন্য কেউ কোনো অনুমতি নেননি। কিন্তু নগরীর ভিতরে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড লাগানোর জন্য সিসিকের অনুমতি নিতে হয়। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের বৈদ্যুতিক শাখার প্রধান নির্বাহী প্র’কৌশলী মো. রুহুল আলম বলেন, বিদ্যুতের তারে ব্যানার ফেস্টুন লাগানো অ’বশ্যই ঝুঁ’কিপূর্ণ।

এখন ঝুঁ’কি জেনেও কেউ লাগালে আমাদের কী করার আছে। তাছাড়া বিদ্যুতের লা’ইনগুলো মূলত পি’ডিবির এখানে ৪ তারের মধ্যে আমাদের মাত্র ১টি তার আছে। এখন বিদ্যুতের তার নিয়ে পি’ডিবি কিছু না করলে আমাদের কী করার আছে। তিনি বলেন, ১১ বছর পর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে। তাই সবাই উৎসাহ উদ্দীপনায় ব্যানার, ফেস্টুন লা’গাচ্ছেন। ব্যানার, ফেস্টুন লাগানোর ব্যাপারে সিসিকের নিয়ম থাকলেও তাদের উৎসাহ উদ্দীপনার কথা চিন্তা করে আমরা বা’ধা দিচ্ছি না। তার উপর তারা সরকারি দল। এখন আমরা ব্যানার, ফেস্টুন সরালে এখানে দ’লাদলি শুরু হবে।

একটি অ’নাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। আমার মনে হয় ব্যানার ফেস্টুনের এই বাড়াবাড়ি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অ’বগত হয়েছেন। আমরা চাচ্ছি সিলেটের এই অবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো নি’র্দেশনা আসুক। নি’র্বাহী প্র’কৌশলী মো. রুহুল আলম বলেন, বিরোধী দলীয় মেয়র হওয়ার কারণে আমরা আরও বেশি বিপদে আছি। কারণ সরকার দলীয়রা ব্যানার লাগিয়েছেন। এখন বি’রোধী দলীয় মেয়র এসব অ’পসরণ করলে রা’জনৈতিক স’মস্যায় পরতে হবে। তাই আমরা সি’দ্ধান্ত নিয়েছি সম্মেলন শেষ হলে সিসিকের পক্ষ থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও বি’লবোর্ডগুলো অ’পসরণ করা হবে।