নিচু জাত নিয়ে খোঁটা দেওয়ায় এক মহিলা চিকিৎসক আত্মহত্যা করলেন৷ শনিবার মুম্বইয়ের এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জন মহিলা চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ অভিযোগ, ২৬ বছরের পায়েল সালমা তাদভি নামের তরুণী দলিত বলে তাঁকে সব সময় অপদস্থ করত ওই তিন জন। শেষমেষ অপমান সইতে না পেরে আত্মঘাতী হন তিনি।

বিওয়াইএল নায়ার হাসপাতালে স্ত্রীরোগ বিদ্যায় পোস্টগ্র্যাজুয়েট এর ছাত্রী পায়েলের এই মর্মান্তিক মৃত্যু মনে করিয়ে দিচ্ছে রোহিত ভেমুলার কথা। ২০১৬ সালে আত্মহত্যা করেছিলেন ওই দলিত ছাত্র। তিন বছরেও যে দেশে দলিত দলনের ছবিটা তেমন পাল্টায়নি, পায়েলের ঘটনাই তার প্রমাণ।

জানা গেছে, হাসপাতালের হস্টেলে থেকে পড়াশোনা ও চিকিৎসা করছিলেন পায়েল। তাঁর তিন সিনিয়র ‘দিদি’ অঙ্কিতা খাণ্ডেওয়াল, ভক্তি মাহেব ও হেমা আহুজা সব সময়েই নানা ছুতোয় পায়েলকে অপমান করত, যার মোদ্দা কারণ ছিল সংরক্ষণের কোটায় পায়েলের ভর্তি হওয়া। এমনকী তারা কলেজের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও সবার সামনে বারবার পায়েলকে অপদস্থ করত বলে অভি়যোগ৷ তাদেরই পুলিশ গ্রেফতার করেছে৷

জানা গিয়েছে, এরকম সমস্যার মুখে পড়ে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পায়েল। বারবার এই নিয়ে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও ফল পাননি পায়েল৷ এমনকী তাঁকে এমন অপদস্থ করার কথা তিনি তাঁর পরিবারকেও জানিয়েছিলেন৷ তাঁরাও কোনও রকম সুরাহা বার করতে পারেননি। শেষমেষ কোথাও কোনও সুবিচার না পেয়ে, অপমানের বোঝা বইতে বইতে ক্লান্ত হয়ে, আত্মহননের পথ বেছে নেন পায়েল৷ মহারাষ্ট্র অ্যাসোসিয়েশনের এক জন প্রতিনিধি আবাসিক চিকিৎসক জানান, ঘটনার আগের দিনই পায়েল দু’টি অস্ত্রোপচার করেছিলেন সফল ভাবে। এ সময় তাঁর মধ্যে কোনও রকম চাপের কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। তার পরেই তিনি নিজের ঘরে চলে যান। এর প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা পরে দরজা খুলে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
মহারাষ্ট্রের আদিবাসী তাদভি ভিল গোষ্ঠীর তরুণী পায়েল শিডিউলড ট্রাইব কোটায় ভর্তি হয়েছিলেন ডাক্তারি পড়তে। কয়েক মাস আগেই বিয়েও হয়েছিল তাঁর। এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়েও ডাক উঠেছে পায়েলের সুবিচারের।পায়েলের বাবা স্থানীয় জেলা পরিষদের অফিসে সরকারি চাকরি করেন নিচু পোস্টে। দাদা শারীরিক প্রতিবন্ধী, বাড়িতে বসে মোবাইল সারায়। দাদাকে ছোট থেকে দেখেই ডাক্তার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পায়েল। পায়েলের মা আবেদা তাদভি বলেন, “আমাদের গোটা জাতের মধ্যে ও-ই প্রথম মেয়ে, যে ডাক্তারি পাশ করেছিল। আমাদের পরিবারে কেউ এত বড় হয়নি ওর মতো। ও এত পরিশ্রম করেছিল ডাক্তার হবে বলে সব শেষ।

পায়েলের স্বামী সলমন তাদভিও ওই একই হাসপাতালের চিকিৎসক। তিনি বলেন, “ও যখন নায়ার হাসপাতালে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করতে এল, ওকে কয়েক দিনের জন্য হেমা আহুজা এবং ভক্তি মেহারের সঙ্গে থাকতে বলা হয়েছিল। তখন থেকেই ওকে অবদস্থ করতে থাকে ওরা। এমনকী ওরা টয়লেট থেকে এসে ইচ্ছে করে পায়েলের খাটে পা মুছত।”

পায়েলের পরিবারের দাবি, গত বছর ডিসেম্বর মাসে পায়েলের মা আবেদা তাদভি নিজে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। তিনি বলেন, “আমার মেয়েটার খুব মনের জোর ছিল। অনেক দিন ধরে সহ্য করছিল। কিন্তু শেষমেশ ভেঙে পড়ল। জানতে পারিনি, এতটা হতাশ হয়ে গেছে ও।

তাঁর দাবি, দোষীদের যত দ্রুত সম্ভব শাস্তি হোক। “ওদের এমন শাস্তি দেওযা হোক, যাতে আর কেউ কারও সঙ্গে এমনটা করতে সাহস না পায়। তবেই পায়েলের সুবিচার হবে।