১৪ মে, মঙ্গলবার। বেলা ১১টা ৫৪ মিনিট। ঢাকা শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সিএনজি অটোরিকশা থামে। দুই নারী নেমে আসেন। একজন বোরখা ও অপরজন সালোয়ার কামিজ পরিহিত। বোরখা পরিহিত নারী দুই হাত দিয়ে একটি নবজাতক বুকে আগলে রেখেছেন। নবজাতকটিকে এমনভাবে ঢেকে রেখেছেন যেন বাইরে থেকে কারো নজরে না পড়ে। কিন্তু মানুষের চোখ এড়ালেও হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে নবজাতকটিকে আনার এই দৃশ্য ধরা পড়েছে। তবে পুুলিশ বলছে, ফুটেজে দুই নারীর ছবি অস্পষ্ট হওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নবজাতকটির শরীর তুলার চাদর দিয়ে ঢাকা। নারীরা সিএনজি অটোরিকশা থেকে নেমে দ্রত জরুরি বিভাগে প্রবেশ করেন। পাশে ব্রেস্ট ফিডিং জোন এবং এর পাশেই টয়লেট। তারা টয়লেটে প্রবেশ করেন।

মাত্র ২/৩ সেকেন্ডের মধ্যে টয়লেট থেকে তারা দ্রুত গতিতে বের হন। এই সময় বোরখা পরিহিত মহিলার দুই হাত বাইরে দেখা যায়। কিন্তু আগের নবজাতকটিকে দেখা যায়নি। তারা বের হয়ে একই অটোরিকশায় চড়ে চলে যান। ঘটনার দুই/তিন মিনিট পর একজন নারী টয়লেটে গিয়ে দেখেন মেঝেতে ফুটফুটে এক কন্যা নবজাতক পড়ে আছে। তিনি বের হয়ে চিত্কার করেন। এরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতকটিকে উদ্ধার করেন। গত বৃহস্পতিবার নবজাতকটিকে আজিমপুরে সমাজ সেবা অধিদফতরের ছোটমনি নিবাসে পাঠানো হয়।

ভিডিও ফুটেজটি আমরা পুলিশের কাছে দিয়েছি। নবজাতকটির পরিচয় বা কারা তাকে এখানে নিয়ে এসেছেন সেই বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী দুই নারী হাসপাতালের টয়লেটে নবজাতকটিকে রেখে যান। ছবি স্পষ্ট নয় বলে আমরা তাদের শনাক্ত করতে পারিনি। তদন্ত চলছে। শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সী বলেন, নবজাতকটিকে উদ্ধার করার সময় তার শরীরে তুলার কাপড় দিয়ে মোড়ানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নবজাতকটি ঢাকার কোনো অভিজাত হাসপাতালে ভূমিষ্ট হয়েছে। কারণ একটু কম অভিজাত হাসপাতালে শিশু ভূমিষ্টের পর তার শরীর তোয়ালে বা কাঁথা দিয়ে জড়িয়ে দেয়া হয়। আর সালোয়ার কামিজ পরিহিত নারীর বেশভূষাও অভিজাত ছিল।