বন্ধ হয়েও হলো না অতি অল্প সময়ে জনপ্রিয় হওয়া গান ও ভিডিওর অ্যাপ টিকটক। বিভিন্ন গান, বিখ্যাত সিনেমার সংলাপসহ নানা রকম অডিওর সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে ছোট ভিডিও তৈরি করে আপলোড করা যায় টিকটক অ্যাপে। কিন্তু এ অ্যাপ ঘিরে রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ।

পর্নোগ্রাফিতে উত্সাহ দেওয়া ও শিশুদের ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে সম্প্রতি আদালতের নির্দেশের পরে ভারতে নিষিদ্ধ হয়েছিল টিকটক। এতে গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে ফেলা হয় এটি।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে খোদ বাংলাদেশেও। অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও বিভিন্ন দেশে এসব প্লাটফর্ম এবং প্লাটফর্মের কনটেন্ট নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এসব প্লাটফর্মের মাধ্যমে অশ্লীল, ব্যাঙ্গাত্মক এবং অপসংস্কৃতির কনটেন্ট আমাদের দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমন সব প্লাটফর্মের মাধ্যমে ছড়ানো হয় অশ্লীল ও আপত্তিজনক কনটেন্ট। ফলে, তরুণ সমাজ বিশেষ করে উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ওপর পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে অ্যাপটি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিলসরকার।

টিকটক বন্ধের বিষয়ে যা বলেছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী টিকটক অ্যাপের মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও বা কনটেন্ট ছড়ানো রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিয়ে ছিল ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। পর্নো সাইট ও জুয়ার সাইট ব্লক করার অভিযানে নেমে ছিলেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে কয়েক হাজার পর্ণো সাইট ব্লক করেতেও সক্ষম হন তিনি। এ বিষয়ে মন্ত্রী তখন বলেছিলেন, ‘যেভাবেই হোক না কেন নতুন প্রজন্মকে আমাকে নিরাপদ রাখতে হবে। আমি একদিকে ছেলে-মেয়েদের বলব যে তোমরা ইন্টারনেটে ঢোক, আবার ইন্টারনেটে ঢুকলেই তারা খারাপ কনটেন্টের মুখোমুখি হচ্ছে। এমন দুটি বিষয় তো একসঙ্গে হয় না। আমাকে তো আমার দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি আরো বলেছিলেন, ‘এটা তো অ্যাপ, তাই এটা বন্ধ করার সঙ্গে কিছু প্রযুক্তি প্রয়োগের বিষয় আছে। এসব প্রযুক্তি ডেভেলপমেন্ট অবস্থায় আছে। আমি এক বাক্যে বলতে পারি যে, টিকটক তো বটেই, আমাদের সমাজ-রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না এমন কোনো কিছুই থাকবে না।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরও দেশে বন্ধ হয়নি সমালোচিত টিকটক অ্যাপ। এখনো ফেসবুকে দেখা যায় টিকটক অ্যাপে বিভিন্ন গানের সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি। সিনেমার বিভিন্ন রকম ডায়লগ ও খোলামেলা গানের দৃশ্য থাকাতে তরুণরা বেশি আসক্ত হচ্ছে অ্যাপটির প্রতি বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি এই ধরনের অ্যাপ বন্ধ করা না যায় তাহলে বর্তমান সমাজের তরুণরা যারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে তারা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বে।

চীনে তৈরি সামাজিক মাধ্যমের এই অ্যাপটি দিয়ে অল্পবয়সী লাখ লাখ ছেলে-মেয়ে পরিচিত সিনেমার ডায়তবে ১৫ সেকেন্ডের থেকে বয় ভিডিও বানানো যায় না এই অ্যাপে। আর নিজের স্বর ব্যবহার করতে পারবেন না। যাকে বলা হয় ‘লিপ সিঙ্ক’, অর্থাত্ ফোট মেলানো।

২০১৬ সালে টিকটকের যাত্রা শুরু হয়েছিল যা দুবছরের মধ্যেই এর জনপ্রিয়তা হু হু করে বেড়ে যায়। ২০১৮-র অক্টোবরে আমেরিকায় সব থেকে বেশি ডাউনলোড করা অ্যাপ ছিল এই টিকটক। গুগল প্লে স্টোরে আশি লাখেরও বেশি ভারতীয় এই অ্যাপটির রিভিউ করেছেন। বলিউড স্টারেদের অনেকেই এই অ্যাপটিকে নিজেদের পছন্দের তালিকায় রেখেছেন।