রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রহমতুন্নেসা হলের এক আবাসিক ছাত্রীর বোনকে বের করে দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রীরা। বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তারা এ প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধন থেকে ছাত্রীরা হলগুলোতে গেস্ট রাখার অনুমতি, ডাইনিংয়ের খাবারের মানবৃদ্ধিসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে দাবি জানানো হয়। এছাড়া মানববন্ধন থেকে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুর দেড়টায় অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।

মানববন্ধনে রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাকিলা খাতুন বলেন, মেয়েরা রাতের বেলা অসুস্থ হলে মেডিকেলে নিতে শিক্ষকদের সুপারিশ নিতে হয়! যদি রাজশাহী মেডিকেলে যেতে হয় তাহলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে যেতে হয়, যেটা ছেলেদের হলে অন্য নিয়ম। ক্যাম্পাসে মেয়েদের কোনো নিরাপত্তা নাই, কোনো মেয়ে লাঞ্চিত হলে, মেয়েদের কেউ উত্যক্ত করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে উল্টো প্রশ্ন করা হয় যে আপনি ওখানে কেন গিয়েছিলেন! ছেলেদের হলে এক নিয়ম আর মেয়েদের হলে আরেক নিয়ম কেন?

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, আমাদের হলে শুধু মাকে রাখার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু আমরা যারা গ্রামে থাকি তাদের অনেকের মায়েরা অশিক্ষিত, একা আসতে পারে না। তার সাথে আমাদের বোন বা অন্য কেউ আসবে এটাই স্বাভাবিক। দেখা যায় যে, মাকে হলে রাখার ব্যবস্থা করে বোনকে বের করে দেওয়া হয়। তাহলে আমার বোনকে কোথায় রাখবো? মেয়েদের হলের গেস্ট ভিতরে প্রবেশের সময় ‘বিরক্তিকর চেকিং সিস্টেম’ চালু আছে। ব্যাগ, জামা এমনকি বোরকা খুলে চেক করা হয়। আমরা আমাদের অধিকার চাই। ছেলেদের হলগুলোতে ছেলেরা যে সুযোগ সুবিধা পায় আমরাও সেই সুযোগ চাই।

কর্মসূচিতে একত্মতা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী মানববন্ধনে অংশ নেয়। এসময় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। জানতে চাইলে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার নানা অসুস্থ হওয়ায় তাকে রাজশাহী হাসপাতালে ভর্তি করাতে আমার বোন আসে। রাতে থাকার জন্য সন্ধ্যা আটটার দিকে আমি তাকে হলে নিয়ে আসি। আমাদের দেখতে পেয়ে প্রাধ্যক্ষ ম্যাম আমাকে ডেকে নিয়ে রাতে বহিরাগত কাউকে হলে না রাখার জন্য বলেন।

আমি আমার বোন বলে পরিচয় দিলেও তিনি তাকে বের হয়ে যেতে বলেন। আমি অনুরোধ করলে তিনি আমাকে কিছুক্ষণ পর দেখা করতে বলেন। আমি আমার বোনকে রুমে পাঠিয়ে দিয়ে ম্যামের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করি। কিন্তু তিনি না আসায় আমি রুমে চলে যাই। পরদিন সকাল সাতটায় একজন খালাকে পাঠিয়ে দিয়ে তিনি আমার বোনকে হল থেকে চলে যেতে বলেন। আমি তা প্রাধ্যক্ষ ম্যামকে জানালে তিনিও আমাকে তাই বলেন। আমি কিছুক্ষণ সময় চাইলেও তিনি আমাকে চলে যেতে বলেন।’

জানতে চাইলে রহমাতুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ রোকসানা বেগম বলেন, মেয়েদের আবাসিক হলে কোন গেস্ট রাখার নিয়ম নেই। আমরা সেই আইন ভঙ্গ করতে পারি না। আমি শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই ওই মেয়ের বোনকে হল থেকে বের হতে বলেছি। শুনেছি শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় আন্দোলনও করেছে। যদি প্রশাসন বিষয়টি মেনে নেয় তাহলে আমিও মেনে নেব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয় সম্পর্কে অবগত না। তবে একজন ছাত্রীর বোনকে হল থেকে বের করে দেবার ঘটনা শুনেছি। মেয়েদের হলে কোন বহিরাগতদের থাকা নিষেধ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত এই আইন শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্যই করা হয়েছে। তাই ওই মেয়েকে থাকতে না দেয়া অযৌক্তিক কিছু নয়। আর শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করেছে সেটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। যৌক্তিক বিষয় নিয়ে আমাদের কাছে আসলে আমরা এর সমাধান করব।