সাত্তার আজাদ, সিলেট: সিলেট জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে কদর বেড়েছে পাট শাকের।প্রবাসে বসবাসকারী সিলেটীদের কাছে পছন্দের খাবার হওয়াতে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে পাট শাক। সিলেটে প্রতি আটি পাটশাক বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে।চৈত্র মাসের শুরু থেকে জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে কদর বেড়েছে পাট শাকের। সিলেটীদের কাছে কদর থাকায় ক্রেতাদের কাছে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে পাট শাকের।সিলেটে বলে নালি শাক।

সিলেটের কাঁচামালের বড় আড়ৎ সোবহানিঘাটে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে এই শাক। এখান থেকে ভালো পাতা দেখে রপ্তানিকারকরা কিনে নিয়ে তা লন্ডন, আমেরিকা কানাডাসহ সিলেটী বসবাসকারী দেশে পাঠানো হচ্ছে। চাষিরা খেত থেকে তুলে পাক শাক বাজারে নিয়ে আসেন। খুচরা ব্যবসায়ীরা শাক কিনে আটি করে বিক্রি করছেন। পাইকারদের কাছে ১শ আটি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি অধিদপ্তর জানায়, সিলেটে অধিকাংশ চাষি পাট শাক চাষ করেন। সিলেট পাট শাককে বৌপাগলি, তিতা নালি,মিঠানালি বা নালিশাক বলা হয়। মিষ্টি হওয়াতে বৌপাগলি শাক সবার প্রিয়।শাক হিসেবে শুধু মুখরোচকই নয় পাটের পাতায় রয়েছে পুষ্টিগুণ। পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন সি ই কে বি- ৬ এবং নিয়াসিন রয়েছে।

পত্র ছাড়া উচ্চমাত্রায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ক্যারোটিন এবং খাদ্য আঁশ। পাটশাকে দেহের শিরা উপশিরার বিস্তৃতি বাড়িয়ে রক্তসঞ্চালন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এতে মানব দেহের উচ্চ রক্তচাপ দূর হয়। উচ্চমাত্রার অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরে যেকোনো ধরণের ক্যানসার প্রতিরোধক পাটশাকে থাকা উপাদান রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে।হার্ট অ্যাটাক এবং ষ্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।পাটশাকের ম্যাগনেশিয়াম শরীরে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন করে যা স্নায়ুতন্ত্র শান্ত রাখে। এতে ঘুম ভালো হয়।

সিলেটে পাট শাক চিকন করে কেটে কাঁঠাল বিচি কুচি করে দিয়ে রান্না করা হয়। অনেকে এ শাকের সাথে নাগা মরিচ (বোম্বাই মরিচ) দিয়ে খেতে পছন্দ করেন। প্রবাসে সিলেটীরা পাট শাক রান্না শেষে আত্মীয়স্বজন মিলে উৎসব করে খেয়ে থাকেন।সিলেট কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক মো. ইলিয়াস জানান,সিলেটে শাক হিসেবে পাট চাষ করা হয়। গাছ দেড় দুই ফুট হলে শাক কেটে বাজারে বিক্রি করে দেন চাষিরা।