সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঝড়ো হাওয়া। সেই সঙ্গে হয়েছে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি। এ শিলাবৃষ্টি তাণ্ডব চালিয়েছে ফসলি জমিতে। পাশাপাশি হয়েছে ব্যাপক বজ্রপাত।

রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড় এলাকায় ঝড়ে ভবনের ইট পড়ে ও সংসদ ভবন এলাকায় গাছ চাপা পড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন পুরুষ ও অপর জন নারী।

রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুরানা পল্টন মোড় মল্লিক কমপ্লেক্সের নিচে ভবনের ইট ধসে এক চা দোকানী মারা যান।

নিহত হানিফ (৫০) বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ থানা উলানিয়া গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে। বর্তমানে ১০৮ দক্ষিণ মুগদা পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পুলিশ জানায়, ঝড়ের সময় ওই ভবনটির ইট ধসে পড়ে চা দোকানী আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পল্টন থানার এসআই সুজন কুমার তালুকদার জানান, ঝড়ের সময় ওপর থেকে শরীরে ইট ধসে পড়ে তিনি মারা গেছেন। বর্তমানে লাশ ঢামেক মর্গে রয়েছে।

এদিকে সংসদ ভবন এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে এক নারী মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, শেরে বাংলা থানার ডিউটি অফিসার এসআই জোনায়েদ। তবে ওই নারীর পরিচয় জানা যায়নি।

এছাড়াও রাস্তায় থাকা বিভিন্ন যানবাহন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। রাজধানীর গুলশানে বয়ে যাওয়া ওই কালবৈশাখী ঝড়ে গুলশান এভিনিউয়ে বিল্ডিংয়ের কাঁচ পড়ে একটি গাড়ির ওপর।

ওই গাড়ির (ঢাকা-মেট্টো ক-১৩-০৪৭৫) মালিকের নাম ইঞ্জিনিয়ার সালাহউদ্দিন। দুর্ঘটনার সময় তিনিও ওই গাড়িতে থাকায় আহত হন।

হঠাৎ ঝড়ে রমনা পার্কের সামনে গাছ ভেঙে সিএনজি ও প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা গেছে।

অপরদিকে বজ্রপাতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নে বাহাদুরপুর গ্রামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম আছর উদ্দিন (৬৫)।

বাহাদুরপুর এলাকার মগড়া নদীর পাড়ে কৃষিজমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হন তিনি। রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে দুর্গাপুর উপজেলায় বিকেল থেকে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সঙ্গে আধা ঘণ্টাব্যাপী চলে শিলাবৃষ্টি। এতে উঠতি বোরো ফসল ও সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।