যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংক এ মামলা করেছে। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে অভিযোগে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

গত মাসের শুরুতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কৌঁসুলি আজমালুল হোসেন কিউসি দেশে ফিরে জানিয়ে ছিলেন মামলা করলেও বিবাদীদের সঙ্গে সমঝোতা করে অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা চালাবেন। এখন এ কৌঁসুলিসহ পাঁচ সদস্যের একটি দল ফিলিপাইনে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আরসিবিসি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করলো।

আরসিবিসির মামলার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এটা যেহেতু আন্তর্জাতিক একটি বিষয় তাই এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার অর্থ চুরি হয়। হ্যাকাররা সেই অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখার ৪টি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। সেখান থেকে ওই অর্থ ফিলিপিনো পেসোতে রূপান্তরের পর দুটি ক্যাসিনোতে চলে যায়। এ ঘটনায় দায়ী করে গত ১০ জানুয়ারি রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোকে কারাদণ্ড দেন দেশটির আদালত। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিসহ অর্থ পাচারের আট দফা অভিযোগে তাকে দণ্ড দেওয়া হয়। তবে এ রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দেগুইতো ছাড়াও আরসিবিসির আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এখন নতুন করে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করছে ফিলিপাইনের এ ব্যাংকটি। উল্টো আরসিবিসির দাবি, তাদের ভাবমর্যাদার ওপর দফায় দফায় ‘অশুভ আক্রমণ’ চালানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি পেসো (১৯ লাখ ডলার) পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে।

৬ মার্চ দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ করেছে, আরসিবিসির সুনাম, খ্যাতি ও ভাবমূর্তি ধ্বংসের জন্য মানহানি, হয়রানি ও হুমকির আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্য দিয়ে তারা আরসিবিসি থেকে তহবিল সংগ্রহের জন্য একটি বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে।

এর আগে চুরি যাওয়া রিজার্ভ উদ্ধারের আশায় গত ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আরসিবিসির দাবি, বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ সাইবার চুরির ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন।