ডাকসুর নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ও তার সহকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার দুপুর ২টার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র টিএসসিতে এই ঘটনা ঘটে। দুপুরে সহকর্মীদের নিয়ে হাসপাতাল থেকে ঢাবি ক্যাম্পাসে আসেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক। টিএসসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি।

 

এ সময় মিছিল নিয়ে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীরা ডাকসু নির্বাচনে কোটা আন্দোলনকারীদের প্যানেলের সদস্যদের ওপর হামলা করেন। তারা ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনের অনুসারী বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগ কর্মীরা সেখানে কয়েকজনকে মারধর করেন এবং স্লোগান দেন।

 

এসময় ছাত্রদলের অপর একটি মিছিল এদিকে আসছিল। সেই মিছিলও সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যায়। মিছিলে থাকা ডাকসু নির্বাচনের সমাজসেবা পদে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতাকারী ছাত্রদলের তৌহিদুর রহমানের মাথা ফেটে যায়। টিএসসিতে অনেকটা ত্রিমুখী সংঘর্ষের আবহ সৃষ্টি হয়।

এদিকে ছাত্রলীগের ধাওয়া খেয়ে টিএসসির সামনে বাম জোটের মিছিলের দিকে চলে যান নুর ও তার সহকর্মীরা। এরপর বাম জোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী, বেনজীরসহ নুরদের মিছিল টিএসসি থেকে ঢাবির ভেতরে ঢোকে।

 

রাজু ভাস্কর্যের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভিপি নুর। সেখানে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ছাত্রলীগ একটি সদস্য পদও পেত না। ছাত্রলীগকে একটি গুজব সংগঠন বলেও অভিহিত করেন তিনি। একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির উপর হামলারও নিন্দা জানান ডাকসুর এ নতুন ভিপি।

নুর বলেন, ডাকসু নির্বাচনের সময় যারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ছাত্রলীগ একটা গুজবের সংগঠন। তারা সব সময় শুধু গুজব ছড়ায়। এছাড়া ঢাবি প্রশাসন ছাত্রলীগের অপকর্মের সাহযোগী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নুর বলেন, ডাকসুর ভিপি এবং সমাজসেবা সম্পাদক পদ ছাড়া বাকি সব পদে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে। ডাকসুর ভিপি এবং শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কিভাবে সেই নির্বাচন করা যায় তা নির্ধারণে প্রয়োজনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসা হবে।

 

তিনি বলেন, কারচুপি তো অনেক হয়েছে। ডাকসুর ফল ঘোষণা নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে। আমি ঘোষণা দিচ্ছি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ছাত্রলীগ একটা সদস্য পদেও জয়ী হতে পারতো না। ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদ ছাড়া বাকি পদগুলোতে যদি পুনরায় সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আর সেখানে ছাত্রলীগ একটি পদেও জয় লাভ করে তাহলে ভিপি পদ থেকে পদত্যাগ এবং ঢাবির ছাত্রত্ব প্রত্যাহার নেয়ার ও ঘোষণা দেন তিনি।