ল্যাবে তৈরি হচ্ছে, খাবার উপযোগী মাংস। টিস্যু থেকে গরু ও মুরগির মাংসের কোষ তৈরিতে এরই মধ্যে সফলতা পেয়েছে ইসরায়েলের বিজ্ঞানীরা ।

ল্যাবে তৈরি হচ্ছে গরু ও মুরগির মাংস। তারা জানান, প্রোটিনসহ খাবারের অন্যান্য উপাদান থাকবে ল্যাবে তৈরি এই মাংসে।প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি টুকরো মাংসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, পঞ্চাশ ডলার।

উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমবে বলেন গবেষকরা।ল্যাবে অন্যান্য খাবার তৈরির আশাও দেখাচ্ছেন তারা।ল্যাবে মাংস তৈরির প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছেন ইসরায়েলের বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘ পরীক্ষার পর তারা সফলতা পেয়েছেন, গরু ও মুরগির মাংস তৈরিতে।

ইতিমধ্যে রান্না করা হয়েছে এই মাংস স্বাদ নিয়েছেন, অ্যালেফ ফার্মসের এই গবেষকরা। একে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি ও খাদ্য উৎপাদন সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখছেন তারা।

টেকনিয়ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সুল্যামিত লেভেনবার্গ বলেন, মাংসের টিস্যু থেকে ল্যাবে তৈরি হচ্ছে নতুন মাংস। একই প্রযুক্তিতে মাংসের টিস্যু থেকে কোষ এবং কোষ থেকে গরুসহ সব গৃহপালিত পশু তৈরি করা সম্ভব। সাধারণ মাংসের সাথে ল্যাবে তৈরি মাংসের কোনো পার্থক্য নেই। এ মাংস অবশ্যই খেতে পারবেন।

অ্যালেফ ফার্মসের প্রধান নির্বাহী দিদিয়ার তওবিয়া বলেন, প্রকৃতিতে ভারসাম্য রেখেই এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য আমাদের। প্রোটিনসহ খাবারের অন্যান্য উপাদান থাকবে ল্যাবে তৈরি মাংসে। এর বাজারজাত শুরু হলে জমি, পানিসহ অনেক উপাদানের ব্যবহার সাশ্রয়ী হবে। নতুন পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে সেগুলো।

প্রাথমিক পর্যায়ে ল্যাবে উৎপাদিত প্রতি টুকরো মাংসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, ৫০ ডলার। উৎপাদন বাড়লে ও প্রযুক্তি সহজলভ্য হলে দাম হাতের নাগালে নামবে বলে জানান গবেষকরা। ইতিমধ্যে এই নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

ল্যাবে প্রতি ৩ সপ্তাহের মধ্যে মাংসের টুকরো তৈরি হচ্ছে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে আরো কম সময়ের মধ্যে একই পরিমাণ মাংস উৎপাদন সম্ভব। এতে এর দামও কমবে।

গৃহপালিত পশু লালন-পালনে পানিসহ নানা উপাদানের জন্য অনেক বেশি ব্যয় হয়। এই খরচ কমানোই বড় চ্যালেঞ্জ। ল্যাবে মাংস তৈরিতে পানি, ভূমি ও বিদ্যুতের ব্যবহার ১৬ শতাংশে নেমে আসবে। খাবার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অভাবনীয় সাফল্য আনবে এ মাংস। একইসঙ্গে ল্যাবে তৈরি কোষ থেকে পশু উৎপাদন হলে উৎপাদন খরচ আরো কমবে।

সবজিসহ অন্যান্য খাবার ল্যাবে তৈরির আশা দেখাচ্ছেন অ্যালেফ ফার্মসের এই গবেষকরা। তাদের দাবি ল্যাবে খাবার উৎপাদনে সফলতা এলে, বাড়তে থাকা জনসংখ্যার জন্য খাদ্যের যোগান প্রক্রিয়া সহজ হবে । প্রোটিনের চাহিদা মিটাবে ।