চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রসুল নিশানকে অপহরণের জেরে রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই ছাত্রলীগ নেতা শুক্রবার রাত (২২ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর লালখান বাজার থেকে অপহৃত হন। পরে ওইদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে উদ্ধারও করা হয়।

অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট ও এক নম্বর গেট এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে তার অনুসারীরা। অনুসারীদের অভিযোগ শাখা ছাত্রলীগের ‘সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের নেতা ও একই কমিটির সহসভাপতি মনসুর আলম, উপ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল টিপু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তোরাব পরশের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে।

এ অভিযোগের জেরে সংঘর্ষ বাধলে এতে আহত হয় অন্তত ১০জন। আহতরা হলেন- ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের মিলন, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের সাংবাদিকতা বিভাগের শামীম, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ধ্রুব, পদার্থবিদ্যা বিভাগের আনিস, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের মাহমুদুল ইসলাম ও মামুন ইসলাম, একই শিক্ষাবর্ষের সাদ্দাম হোসেন, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অর্ণব ইসলাম, আরবি বিভাগের ইমাম, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অভয় ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সৌরভ তালুকদার। এদের মধ্যে তিনজনের মাথায় ও চোখে আঘাত লাগায় চমেকে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উল্কা গ্রুপের নেতা সুমন খান বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপুর বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় মনসুর আলম, ইকবাল টিপু ও আবু তোরাব পরশের নেতৃত্বে তাকে অপহরণ করা হয়। আবার আমরা অবরোধ করতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চলছে, চলবে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা মনসুর আলম বলেন, ‘ওর (নিশান) সঙ্গে কী হয়েছে, কে বা কারা অপহরণ করেছে আমরা এ ব্যাপারে জানি না, অবগত নই। আমি তো ফেসবুকে জানলাম। আমাদের বিরুদ্ধে কেউ যদি অভিযোগ করে করে থাকে সেটা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে করেছে। আমাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে তারা ঈর্ষান্বিত বলেই এমন অভিযোগ তুলছে। এ ব্যাপারে কথা বলতেও আমার লজ্জা লাগছে।

উল্লেখ্য, নিশান শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি ও ‘উল্কা’ গ্রুপের নেতা। ২২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপুর বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় লালখান বাজার মোড় থেকে অপহৃত হন। আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে টাইগারপাসে ঝাউতলা স্টেশনের পাশের একটি পাহাড় থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) পাঠানো হয়। এ সময় তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এছাড়াও প্লাস দিয়ে নখ তুলে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।