প্রসঙ্গঃ #ওয়েবক্যাম, #সাইবার_ক্রিমিনালস্ আর আমাদের #নিরাপত্তা।
======================================
সাবেক #সিআইএ এজেন্ট ‘এডওয়ার্ড স্নোডেন’ কিংবা ‘জুলিয়ান এসাঞ্জ’ তাঁদের লাইফ নিজ হাতে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে মুখ না খুললে সম্ভবত আমরা কখনোই জানতে পারতাম না যে UK,USA -এর গোয়েন্দারা বিশ্বের এতো গুলো দেশ আর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের ফোনে আড়িপাতে।
প্রশ্ন আসেঃ কিভাবে আড়িপাতে?
উত্তরঃ ফোন কিংবা ওয়েবক্যাম হ্যাক করে।

সুতরাং আপনি কি করে আত্মবিশ্বাসী হয়ে বলতে পারেন আপনার সকল কার্যকলাপ বা মুহূর্তগুলো তৃতীয় পক্ষের কেউ দেখছে না? কেউ #নজরদারি করছে না আপনার উপর?
প্রযুক্তিনির্ভর আজকের দিনে আপনার #প্রাইভেসি খুব সহজেই কম্প্রোমাইজ হতে পারে আর তার জন্যে দায়ী হতে পারে আপনার সর্বক্ষণের সঙ্গী প্রিয় #স্মার্টফোন, #ল্যাপটপ, ট্যাব অর্থাৎ ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করে এমন সব ডিভাইস বা #ক্যামেরা। একটু অসতর্কতায় বা অজ্ঞতায় সহজেই আমার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারি আপনার এই প্রিয় ডিভাইসগুলোকে।

২০১৪ সালে এমন কয়েকজন #হ্যাকারকে এরেস্ট করে এফ বি আই, যারা বিভিন্ন প্রোগ্রাম ইউজ করে পৃথিবীর নানা দেশের মানুষের ব্যাক্তিগত তথ্য চুরি করতো কিংবা #ব্ল্যাকমেইল করতো। এই প্রোগ্রাম মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে কোন অংশে কম ধ্বংসাত্মক নয় যদি আপনি বুঝতে পারেন এর ধ্বংসাত্মক দিক গুলো।

একই বছর, আমার পাশের টাউন ‘লেস্টার’ থেকে তেমনি এক হ্যাকারকে ‘#স্কটল্যান্ড_ইয়ার্ড’ এরেস্ট করে, যে ব্রিটেনের একটি ব্যাংক ‘Barclays’ কে টার্গেট করে প্রত্যেক একাউন্ট থেকে ১ বা ২ পেনি করে চুরি করে করে মিলিয়ন পাউন্ডের মালিক হয়ে যায়। ১ বা ২ পয়সার হিসেব খুব কম মানুষই রাখেন আর এই সুযোগই সে কাজে লাগিয়েছিলো। যুক্তরাজ্যের প্রত্যেকটি ব্যাংক প্রতি মাসে গ্রাহকদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট পাঠায় আর এক আফ্রিকান কাস্টোমার স্টেটমেন্ট চেক করতে গিয়ে দেখে প্রতি মাসে তার একাউন্ট থেকে এইভাবে ১/২ পেনি করে গায়েব! সে ব্যাংকে গিয়ে এর কৈফিয়ত চাইলে ব্যাংক নামে ঘটনা তদন্তে। তখন বেরিয়ে আসে তার মত সবার একাউন্ট থেকেই একই ভাবে ১ থেকে ৪ পেনি করে নাই। এভাবেই ধরা পড়ে সেই হ্যাকার।

এর পর সে স্বীকার করে ডিজিটাল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পার্সোনাল #ইনফরমেশন চুরি করে, আর সেসব ইনফরমেশন ব্যাবহার করেই তাদের ব্যাংক একাউন্টে ঢুকে পড়ে।

কয়েক বছর আগে হ্যাকার গ্রুপ ‘#অ্যানোনিমাস’ এর একটা পোস্টে ধরা পড়ে ‘#মার্ক_জাকারবার্গ’ -এর ল্যাপটপ, যেখানে দেখা যায় তাঁর ম্যাকবুকের #ওয়েবক্যাম আর #মাইক্রোফোনটি টেপ দিয়ে ঢাকা। যা অনেকেই লক্ষ করেননি কিছু শার্প চক্ষু ছাড়া। কিছুদিন পর Washington Post, The Guardian, New York Times সহ সবগুলো প্রভাবশালী মিডিয়া এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে – “মার্ক জাকারবার্গ যদি তাঁর ল্যাপটপের ওয়েবক্যাম ঢেকে রাখেন তবে আমরা কেন নয়”?

সম্প্রতি রিলিজ হওয়া ফিল্ম “Snowden : The Movie” তে দেখা যায় এনএসআই এর আড়িপাতার খবর জানার পর #স্নোডেন সবার আগে তার বান্ধবীর ওয়েবক্যামটি ঢেকে দেয়।

আর এই ল্যাপটপটি সব সময়ই আমাদের কাছে থাকে, বেশি থাকে আমাদের বেড রুমে; নিশ্চই চাইবেন না আপনার একান্ত মুহুর্তগুলো অন্য কেউ দেখুক বা সংরক্ষণ করুক! এমন কিছু মুহূর্তের ফটো বা ভিডিও কারো হাতে চলে গেলে তার কাছে আপনি জিম্মি হয়ে গেলেন।
অথবা আপনার ফোনে থাকা সব গুলো ইনফরমেশন অন্য কারো হাতে চলে গেলে কি হতে পারে আশা করি তা আর ব্যাখ্যা করতে হবে না?

‘নাম্বার স্পুফিং’ এর মাধ্যমে আপনার #ফোন_নাম্বার ব্যাবহার করে যে কাউকে আমি কল করতে পারি, ম্যাসেজ দিতে পারি।

ফোন বা ল্যাপটপ ব্যাবহার করে আমি জানতে পারি আপনার আগামী কালকের বা আগামী এক সপ্তাহের সকল পরিকল্পনা, যেমনটা দেখি আমরা অনেক মুভিতে, কাউকে আক্রমণ কিংবা খুন করতে এই পরিকল্পনা জানা অনেক জরুরী।

সবকিছু ব্যাখ্যা করতে গেলে লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে, তাই সংক্ষেপে বলি – পার্সোনাল ইনফরমেশন আর #ডিজিটাল_ফুটপ্রিন্ট আপনার জন্য কতবড় বিপদ ডেকে আনতে পারে সেটা কাউকে সহজ ভাষায় বুঝানো অসম্ভব। তাই কিছু সাজেশন্স-

১) ইন্টার্নেটের দুনিয়ায় যা দেখবেন চোখ বুজেই বিশ্বাস করতে যাবেন না। (‘লাইক’ দিয়ে ‘আমিন’ বলতে ভুলবেন না কিন্তু)

২। আপনার ল্যাপটপের ওয়েবক্যাম এবং #মাইক্রোফোনটি এক টুকরো টেপ দিয়ে ঢেকে রাখুন, প্রয়োজন হলে টেপ সরিয়ে ক্যামেরাটি একটু পরিষ্কার করে ব্যাবহার করুন, ব্যাবহার শেষে আবার ঢেকে রাখুন। এতে লাভ ছাড়া লোকসান হবার কথা না।

৩। খুব #ব্যাক্তিগত ইনফরমেশন আদান-প্রদান করতে TOR বা Secured/ Encrypted লাইন ইউজ করুন। http সাইটগুলো পরিহার করে https ইউজ করুন।

৪। কোন সাইট ব্রাউজ করতে গিয়ে কিংবা কোন ইমেইল ওপেন করলে যদি #সিস্টেম_পপ_আপ (System Pop-Up) -এর মত কোন ডায়লগ বক্স ওপেন হয়, কোন রকম ক্রেডেনশিয়াল চায় তাহলে ভুলেও কিছু এন্টার করাবেন না।

৫। কোন প্রোগ্রাম/ সফ্টওয়ার ইনস্টল করার পূর্বে তার Publisher ও Certificate Validity কনফার্ম হয়ে ইনস্টল করবেন। আবার কোন প্রোগ্রাম আছে (যেমন #কি_লগার- #Key_Logger), ইনস্টল হতে কোনরকম #পারমিশন লাগে না, আইডেন্টিটি হাইড করেই এগুলো ইনস্টল হয়, আর একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর আপনার ফোন/ কম্পিউটারের ডেস্কটপের স্ক্রিনসট, ওয়েবক্যাম থেকে স্নাপ, কিবোর্ডে টাইপ করা প্রতিটি অক্ষর হ্যাকারকে পাঠায় #স্বয়ংক্রিয় ভাবে।

৬। একটি পেইড এন্টিভাইরাস (Norton, AVG, MS Security Essential, MBAM) ইউজ করুন এবং আপডেট করুন নিয়মিত।

৭। ওয়াশরুম/ চেঞ্জিং রুমগুলোতে অনেক চতু্রতার সাথে #বিশেষ_ক্যামেরা লুকানো থাকে, সতর্ক থাকুন এমন সব স্থানে; যতসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৮। ব্যাবহার শেষে ডিভাইসগুলো এমন স্থা্নে রাখুন যেখানে আপনার/ আপনাদের কথোপকথন ক্লিয়ারভাবে না পৌছায়।

এতো বড় পোস্ট কস্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। মুল উদ্দেশ্য, প্রযুক্তি আর মার্কেটিং শেখানোর নামে মানুষকে #বোকা বানাবার এই যুগে একজন মানুষও যদি এই লেখা পড়ে উপকৃত হবে।