প্রশাসনের প্রতি জোর আবেদন !!!
জামাই আদর দিয়ে জেলখানায় নয়,রিমান্ডে এনে সকল অবৈধ টাকার উৎস উদঘাটন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের নাম বাহির করুন ।

একটা সহজ সরল যুবক জাহেদ। যার নেশা ফুটবল খেলা। সদ্য কৈশোর পার করে যৌবনে পদার্পণ,গরীব ঘরের সন্তান ।তার অপরাধ কি? কেউ জানেনা। অভাবের সংসারে একটি চাকরি নেয়। আশা ছিলো বাবা মায়ের মুখে হাসি ফুটাবে।

কিন্তু সে কি জানতো এভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় তার চোখ উপড়ে নেবে এই অপরাধ জগতের হোতা, একটা কালোবাজারি। ভাবতেই কষ্ট হয় এ যেন আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগকেও হার মানায় । এতো এতো নির্যাতনের পরও জাহেদ নরপশুদের আকুতি জানায় তার চোখ নষ্ট না করার। মিনতি জানায় চোখ নষ্ট না করে হত্যা করার। কিন্তু ঐ পিচাশ জাহেদকে হত্যা না করে চোখে চুন দিয়ে চোখ বেঁধে রেখে চোখ নষ্ট করে দেয় । কত্তো কষ্ট একবার ভাবুনতো।

ঐ নর পশুর উদ্দেশ্য জাহেদ ভিক্ষা করবে আর সে খিলখিল করে হাসবে। এ যেন বাংলা সিনেমার গল্প । কিন্তু জাহেদ আজ সত্যি অন্ধ । কে নেবে এ জাহেদের ভরণপোষণের দায়িত্ব, তার মা বাবা ভাই বোনদের দেখাশোনার ভার।

সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের দিন মজুর বাছই মিয়ার ছেলে জাহেদ (২২)। একজন উদীয়মান ফুটবলার। পাশাপাশি জননেত্রী শেখ হাসিনা তথা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের একজন কর্মী । বাঘা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের প্রচার সম্পাদক । গত ০৯/০২/২০১৯ শনিবার দিবাগত রাত বাড়ি থেকে লোক মারফত ডেকে নিয়ে একই ইউনিয়নের রুস্তমপুর গ্রামের মৃত ইসহাক আলীর ছেলে কুখ্যাত কালোবাজারি ও মাদক ব্যবসায়ী ছানু মিয়া উরফে রইব আলী তার সন্রাসী কর্মকাণ্ডের সহযোগীদের নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে তার দুচোখ নষ্ট করে দেয়। জাহেদের হাত পা, মুখ বেঁধে পাশর্বর্তী সুরমা নদীতে নিয়ে বস্তা বন্দি করে নদীতে ফেলে হত্যার পরিকল্পনা ছিল মূল উদ্দেশ্য ।

কিন্তু তার চাচাতো শালা জুবের যার মাধ্যমে বাড়ি থেকে ডেকে এনেছিল, তাকে রক্ষার্থে এ পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সন্ত্রাসীরা। পরিকল্পনা করে সারা জীবনের জন্য অন্ধ করে দেওয়ার। তাই সহযোগিদের সহযোগিতায় চোখে চুন দিয়ে চোখ বেঁধে নষ্ট করে দেয় তার চোখ। অত্যন্ত চতুর ও ঠান্ডা মাথার খুনি রইব আলী জাহেদকে ডাকাত সাজিয়ে তার দলবল নিয়ে হাজির হয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জনাব ছানা মিয়ার বাড়িতে। কিন্তু উপস্থিত লোকজন ঘটনা আঁচ করতে পেরে সন্ত্রাসী, কালোবাজারি ছানু মিয়া উরফে রইব আলীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

আজ ঘটনার প্রায় ৩ দিন অতিবাহিত । এই ঘটনার মূল হোতা কালোবাজারি, মাদক ব্যবসায়ী ছানু মিয়া উরফে রইব আলীকে জনতার সহায়তা আটক করলেও তার সহযোগীরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। জাহেদের পিতা গরীব ও দিনমজুর বাছই মিয়া আজ বাকরুদ্ধ। শুধু ছেলে জাহেদের চোখ নষ্ট করেনি সন্ত্রাসী রইব আলী কেড়ে নিয়েছে সমস্ত পরিবারের চোখ । নস্যাৎ করে দিয়েছে একটি পরিবারের সকল স্বপ্ন, আশা ।
আজ দল মত নির্বিশেষে সকল বিবেকবান মানুষ সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। দেশ বিদেশ থেকে বিভিন্ন সমাজিক মাধ্যমে নিন্দার জড় উঠেছে। জাহেদের দুটি চোখ নষ্ট হলে ঐ সন্রাসীর একটি চোখ খুলে প্রতিস্থাপন করা হোক জাহেদের চোখে। সুন্দর পৃথিবী আবার জাহেদকে দেখার সুযোগ করে দেওয়া হউক। গ্রেফতারকৃত কালোবাজারি, মাদক ব্যবসায়ী ছানু মিয়া উরফে রইব আলীকে রিমান্ডে এনে সকল অপকর্ম ও অবৈধ টাকার উৎস ও তার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হউক। ফিরিয়ে দেওয়ার হউক জাহেদের চোখের আলো। কালো টাকার কাছে যেন হেরে না যায় একটি অসহায় পরিবার।
যুক্তরাজ্য থেকে
সাংবাদিকতা বিষয়ক সম্পাদক
যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবকলীগ ।