“যুবতী রাধে গান কপিরাইট এবং কিছু কথা।।

বাংলাদেশের লোক সংগীত কতোটা সমৃদ্ধ ; তা বলে, শুনিয়ে বুঝানো সহজ কাজ নয়। বলা যায়, লোক সংগীতের আদি ও আধুনিক ধারাই আমাদের সংগীতের প্রান। তাই, নবীন-প্রবীন প্রায় সব কণ্ঠশিল্পী-ই নিজের জনপ্রিয়তাকে পোক্ত করার জন্য বাংলা লোক গানের আশ্রয় নেন। এটা খুব ভালো দিক। এতে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের লোকগীতি আরো সম্মান পায়। বাড়ে দেশের মর্যাদা। এ জন্য এর সাথে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ।
অতি সম্প্রতি, “যুবতী রাধে” শিরোনামে একটি অপ্রচলিত লোক গান তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে, কণ্ঠশিল্পী ‘ সুমি মীর্জা’র হাত ধরে। আজকের লেখাটি সে বিষয়ে।


আমি বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের একজন তালিকাভুক্ত গীতিকার। প্রায় দুই যুগের উপর এ জগতে আমার বিচরন। গান লেখা ,সুর করা ও গান নিয়ে গবেষণা করা আমার পেশা ও নেশা। একটি গান সৃষ্টির পিছনের খবর জানার আগ্রহ বেশী। তাই, সংগীত বিষয়ক কোন অনিয়ম চোখে পড়া মাত্র তা ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।

সে রকম একটি অনৈতিক অনিয়মের শিকার হয়েছে যুবতি রাধে গানটি। কপি রাইট অফিস অনৈতিক ভাবে এ গানটির কপি রাইট দিয়ে দিয়েছে জনৈক তপনকে।
এ প্রসঙ্গে জানা দরকার, আসল ঘটনা কি? আর কে এই তপন? আমি এ ব্যাপারে, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের ২০ তারিখে বাংলাদেশের একটি অন লাইন নিউজ পোর্টাল, ” রাইজিং বিডি ডট কম” পড়ে নিতে অনুরোধ করবো। এতে সরলপুর নামক একটি ব্যান্ড দলের উল্লেখ করে লিখা হয়, তার ভোকালিস্ট, মারজিয়া তুরিন এবং তার স্বামী হচ্ছেন আমার এ লেখার নায়ক ‘ তপন’।
কপি রাইট অফিসের ৫০ নং সিরিয়াল, ১৬০১৬-কপার রেজিষ্ট্রেশন মোতাবেক আমার এ নায়ক ভাইটির নাম, ” মোঃ তারিকুল ইসলাম তপন”, বাড়ি শেরপুর জেলা সদরে। সংগীত জগতে তাকে স্বাগত জানাচ্ছি। একই সাথে, এ জগত যে নীতি নির্ভর, তা ও মনে রাখার অনুরোধ করছি।
এবার চলে আসি যুবতি রাধে, গান প্রসঙ্গে। এ গানটির প্রকৃত রচয়িতা নিয়ে মতবিরোধ থাকায় ডঃ দীনেশ চন্দ্র সেন সংকলিত ” মৈমনসিংহ-গীতিকা”য় এ গানটি জায়গা পায়নি। যদিও অনেকে না জেনে বলেন, এটা মৈমনসিংহ-গীতিকার গান। মূলতঃ এ গানটি ময়মনসিংহ- নেত্রকোনা -কিশোরগঞ্জ -সুনামগঞ্জ অঞ্চলের গান। এর রচয়িতা, ১/দ্বিজ কানাই,২/ নয়ান চাঁদ ঘোষ, ৩/দ্বিজ ঈশান, ৪/ দামোদর দাস,৪/ রঘুসূত,৫/ শ্রীনাথ বিনোদ > এই ৫ পল্লী গীতিকবির কেউ। তবে, তারিকুল ইসলাম তপন বা উনার বংশের কেউ যে নয়; সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।


প্রশ্ন হলো, কপিরাইট অফিস কেন তপনকে কপিরাইট দিল? বাংলাদেশের ২০০৫ সালে সংশোধিত কপিরাইট আইন মোতাবেক উপযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে কপিরাইট দিয়ে পরবর্তীতে তা বাতিল করারও বিধান আছে। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কপিরাইট নিলে,সেটা প্রমান হলে জেল – জরিমানার বিধানও আছে। আমার লেখার নায়ক ও যুবতী রাধে গানটির কপিরাইট পাওয়া তপন সাহেবের পরিণতি কোন দিকে যাবে জানি না। তবে, কপি রাইট অফিস এ গানের কপিরাইট বাতিল না করলে এ জাতীয় অনৈতিক কাজ আরো বাড়বে বলে আমি মনে করি।