কমলাপুর রেল স্টেশনের বা সংরঘাঠের চিত্র নয় এটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন গেইটের গত বৃহস্পতিবারের চিত্র

ছবিতে দৃশ্যমান ব্যক্তিগন সদরঘাটের কুলি নয়- এরা আমাদের সূর্য সন্তান রেমিটেন্স যোদ্ধা । ভাবতে ভালোই লাগে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে অগ্রগতির স্রোতে -সমৃদ্ধির পথে। কিন্তু যখন দেখি এই অগ্রগতির নায়কেরা (প্রবাসী) স্বদেশের বিমানবন্দরে একটা ট্রলি ব্যাবহারের সুবিধা পাচ্ছে না তখন গর্ববোধ করার মানসিকতা হারিয়ে ফেল।

জানিনা ট্রলি স্বল্পতা কিংবা ট্রলি হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে এমনটি করা হচ্ছে কিনা, তবে যতটুকু দেখলাম আর উপলব্ধি করলাম তাতে মনে হলো বহির্গমন চত্বরে এক শ্রেণীর দালাল কাজ করে যারা টাকার বিনিময়ে ট্রলি গুলা পার্কিং পর্যন্ত আনতে দেয় এবং তাদের মাধ্যমে টেক্সি ভাড়া করলেও সে সুযোগ পাওয়া যায়।

আরো একটি বিষয় লক্ষ করলাম যারা শক্ত ভাষায় প্রতিবাদ করতে জানে তারাও দেখলাম ট্রলি বাহিরে আনতে পারছে, গ্রামের স্বল্প শিক্ষিত আর মধ্যবয়সী যাত্রীরা সে সুযোগ পাচ্ছেনা। অবশ্য অনেক শিক্ষিত যুবককে ও দেখছি ঝামেলার ভয়ে নৈরাজ্যের কাছে নতজানু হয়ে মালামাল কাঁধে তুলে নিতে আরও একটা বিষয় আমার নজরে পরে।চযারা ট্টলি আনতে বাধা দিচ্ছে তারা কেউই অফিসার পর্যায়ের না,বেশির ভাগই মনে হলো অষ্টম শ্রেণী নবম শ্রেনীর কর্মচারী অথবা দালাল প্রকৃতির লোক।


দেশ যখন উপযুক্ত যুবকদের কর্মসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন হতাশাগ্রস্ত যুবকদের একটা বিরাট অংশ স্বউদ্যোগে, পারিবারিক অর্থায়নে মা- মাটি ছেড়ে অনিশ্চিত পথে পাড়ি দেয় বিদেশ,আমরা যাদেরকে বলি প্রবাসী। এই প্রবাসীদের অপরিচিত পরিবেশে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রাণপণ লড়াই করতে হয়। শান্তনা তাদের একটাই আমার ত্যাগে পরিবার পরিজন ভালো থাকবে, আমার রেমিটেন্সে সমৃদ্ধ হবে স্বদেশ। কিন্তু বিনিময়ে তাদের প্রাপ্তি যদি হয় এমন তখন আমাদের উন্নতি আর অগ্রগতি প্রশ্নবিদ্ধ হবে নিশ্চয়ই।


আবার একজন প্রবাসী যখন দেশে রওনা হয় তখন তাকে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র যোগাড়, কোম্পানি বা মালিকের সাথে হিসাব নিকাশ, আত্মীয় স্বজনের জন্য কেনাকাটা, মালামাল কাটুন করা সহ আরও অনেক কাজ তাকে করতে হয়। তার উপর দুরত্ব বেধে ৬ থেকে ৯, কেউ কেউ ২০-২২ ঘন্টা জার্নি করে দেশের মাটিতে পা রাখে । ততক্ষণে ঐ প্রবাসী ভাইটি বড়ই ক্লান্ত হয়ে পড়ে।এমতাবস্থায় যখন তার আনিত মালামাল তাকে কাঁধে কিংবা মাথায় তুলে নিতে হয় তখন তার শিশু সন্তানের জন্য আনা শখের খেলনাগুলোও বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়ায়।

মায়ের জন্য আনা তসবি আর বাবার জন্য আনা জায়নামাজের বোঝা বইতেও শরীর সায় দেয় না। বউ আর বোনের জন্য আনা কসমেটিকস গুলো ইচ্ছে করে ছুড়ে ফেলতে। আর ঐ মূহুর্তে প্রবাসী ভাইটির মনে দেশের প্রতি অনিহা জ্ন্ম নিবে এটাই স্বাভাবিক ।


আমার ভাবতে অবাক লাগে। যে দেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে, যে দেশে মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। সে দেশের প্রধান বিমান বন্দরের ব্যাবস্থাপনা এতো নাজুক হবে কেন ?

সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা কি করে, চলমান নৈরাজ্য কি তাদের নজরে পরে না ? তারা কি শুধু তাদের আখের গুছানো নিয়ে ব্যস্ত ? আর এই একটা বিমানবন্দর ঠিক মতো চালাতে পারে না আর তারা আরেকটা নিয়া ব্যাস্ত।নিকুচি করি বিমানবন্দর প্রশাসন এর।