সাত্তার আজাদ, সিলেট: শনিবার সকাল ৮টা ২৯ মিনিট। মৃদু ভূমিকম্পে জেগে উঠেন সিলেটের মানুষ। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। মাত্র বিশ দিনের ব্যবধানে সিলেটে আবারো ভূমিকম্পনে মানুষ বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।



ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের ডাউকি ফল্ট। যে ফল্টে বড় ধরণের ভূমিকম্প হবার আশঙ্কা করছেন বিষেশজ্ঞরা।



গত ১৪ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিলো সিলেট। রিখটার স্কেলে ওই কম্পনের মাত্রা ছিলো ২ দশমিক ৫।

আর আজ সকাল ৮টা ২৯ মিনিটে আবারো কেঁপে উঠে সিলেট।



প্রায় ৫ সেকেন্ডের মতো স্থায়ী হওয়া এই কম্পনের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিলো ২ দশমিক ৯। তবে এ দুটি ভূমিকম্পে কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সিলেটে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস এটি।



আবহাওয়া অধিদফতরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সুমন সাহা বলেন, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে সিলেটের পার্শ্ববর্তী ভারতে কম্পনটির উৎপত্তিস্থল।



২ দশমিক ৯ মাত্রার এ কম্পন কেবল সিলেটেই অনুভূত হয়েছে। এছাড়া কম্পনটি মাত্র একটি স্টেশনেই রেকর্ড সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।


সিলেট আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, শনিবার সকাল ৮টা ২৯ মিনিটের দিকে এ কম্পন অনুভূত হয়।


কম্পনটির উৎপত্তিস্থল সিলেটের কাছাকাছি সীমান্ত এলাকা ভারতের ডাউকি ফল্টে। সিলেট পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে এর উৎপত্তিস্থল।


প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশের পূর্বঞ্চলে যত বার ভূমিকম্প হয়েছে ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল (ইপি সেন্টার) ছিল ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় ডাউকি ফল্টের কাছে।



সিলেট বিভাগ ডাউকি ফল্টের একবারেই কাছাকাছি অবস্থিত। ডাউকি ফল্টের প্রায় ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে সিলেটের অবস্থান।


‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ নামে ইতিহাসের ভয়ানক ভূকম্পনটি হয়েছিল ১৮৯৭ সালের ১২ জুন। এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৭ রিখটার স্কেল।


ভূমিকম্পের ফলে সুরমা অববাহিকাসহ সিলেটের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’-এর পর ১২৫ বছর অতবাহিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ বছরের মধ্যে বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়ে থাকে। সে হিসেবে সিলেট ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে।



ভূ-বিশেষজ্ঞদের সূত্র মতে, বিশ্বের ৬টি ফল্ট লাইনের মধ্যে ভারতের ডাউকি অতিঝুঁকিপূর্ণ ফল্ট লাইন। তাই সিলেটসহ এই অঞ্চল ভূমিকম্পের প্রলয়ঙ্করী অবস্থানে।