কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে প্র’তারণার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধার সহায়-সম্বল নিজের নামে লিখে নিয়েছেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্য।

উপজেলার গোপগ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ বিশ্বাসের স্ত্রী হালিমা খাতুনকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে তার জমি ও দোকান নিজের নামে লিখে নেন ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুস সামাদ সল্টু।জমি ও দোকান ফিরে পেতে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা হালিমা খাতুন (৭২)। গোপগ্রাম ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ সল্টু খোকসা উপজেলার গোপগ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

ইউপি সদস্য সল্টু আগে বিএনপি নেতা ছিলেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। তবে আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে চলেন সল্টু। বৃদ্ধার প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা হালিমা খাতুন চার সন্তানের জননী। তার স্বামী অনেক আগেই মারা যান।

কিছুদিন আগে তার ছেলে মন্টু মারা যায়। ছেলের মৃ’ত্যুর পর ছেলের নামে থাকা জমির ছয় ভাগের এক ভাগের মালিক হন হালিমা খাতুন। বৃদ্ধা হালিমা খাতুনের গোপগ্রাম বাজারে একটি দোকান রয়েছে। ওই দোকানের ভাড়া নিয়ে মৃত ছেলের তিন মেয়ে, দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে কষ্টে সংসার চালান। দোকান ভাড়ার টাকা দিয়ে কোনোমতে চলে তাদের সংসার।

কিন্তু তাদের সেই দোকান ও জমি হাতিয়ে নিতে সুযোগ খুঁজতে থাকেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ সল্টু। কয়েক দিন আগে বৃদ্ধা হালিমা খাতুনকে ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে সেই দোকান ও জমি নিজের নামে লিখে নেন সল্টু মেম্বার।

জানতে চাইলে কাঁদতে কাঁদতে প্রতিবন্ধী হালিমা খাতুন বলেন, ‘ভাতার কার্ড করে দেয়ার কথা বলে আমার সব কিছু নিজের নামে লিখে নিয়েছেন সল্টু মেম্বার। আমি আমার জমি ও দোকান ফেরত চাই। সল্টু মেম্বারের বিচার চাই।’ কীভাবে বুঝলেন জমি লিখে নিয়েছেন সল্টু মেম্বার এমন প্রশ্নের জবাবে বৃদ্ধা হালিমা খাতুন বলেন, ‘আমি দোকানের ভাড়া তুলতে গেলে সল্টু মেম্বার বলে তোমার তো এখন আর দোকান নেই। এই দোকান এখন আমার। তুমি আমার কাছে দোকান ও জমি বিক্রি করে দিয়েছ।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, বয়স্ক ভাতার কার্ডের টাকা তোলার কথা বলে গত ১০ জুলাই খোকসা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে বৃদ্ধাকে নিয়ে জমির দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেন সল্টু মেম্বার। মৃত মন্টুর স্ত্রী সালমা খাতুন বলেন, আমার চার সন্তান। সন্তান ও শাশুড়ি হালিমা খাতুনকে নিয়ে দোকান ভাড়ার টাকায় সংসার চালাতাম।

কিছুদিন ধরে ভাড়াটিয়া আলতাব হোসেন দোকানের ভাড়া দেয় না। আমরা ভাড়া চাইতে গেলে বলে দোকান এবং জমি এখন আর তোমাদের নেই। ইউপি সদস্য সল্টু দোকান ভাড়া দাবি করেছেন, দোকান এবং জমি এখন তার। তোমার শাশুড়ি সবকিছু মেম্বারের নামে লিখে দিয়েছেন।

মৃ’ত মন্টুর চাচা আব্দুল হাই বলেন, সল্টু মেম্বার আমার ভাবি হালিমার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১১ দাগে প্রায় ২ শতাংশ জমি লিখে নিয়েছেন। এখন আলতাব ও সল্টু মেম্বার ১১ দাগের জমি একই দাগে দেখিয়ে তিনটি দোকান দখল করেছেন। যার আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা। বয়স্ক ভাতার টাকা তোলার কথা বলে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নিয়ে আমার ভাবির জমি ও দোকান দখল করে নিয়েছেন সল্টু মেম্বার।

এদিকে, এ ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে ওই এলাকার মানুষ। কিন্তু ইউপি সদস্য সল্টু প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোপগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর বলেন, ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ সল্টু ও ভাড়াটিয়া দোকানদার আলতাব হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে বয়স্ক ভাতার টাকা তোলার নাম করে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা হালিমা খাতুনের ৩০ লাখ টাকার জমি ও দোকান নিজের নামে লিখে নিয়েছে। এমন ন্যক্কারজনক কাজের জন্য প্রতারক সল্টু মেম্বারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আব্দুস সামাদ সল্টু বলেন, এক লাখ ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই জমি ও দোকান স্বেচ্ছায় আমার নামে লিখে দিয়েছেন বৃদ্ধা হালিমা খাতুন। বর্তমানে এই জমি ও দোকান আমার। বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ওই বৃদ্ধার বিপদ হবে।