স্কুল-মাদ্রাসা পর্যায়ে চালু করা হচ্ছে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম।

সারাদেশের স্কুল-মাদ্রাসা মাধ্যমিক পর্যায়ে চালু করা হচ্ছে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে সফলতা পাওয়ায় চলতি বছর পাঁচ জেলার ২৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম চালানোর অনুমোদন মিলেছে।

আগামী ২০২১ ও ২০২২ সালে দেশের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দেশের অন্য ছয় বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ধেক এ কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা হবে।মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমে পরিচালিত ‘জেনারেশন ব্রেক থ্রু’ প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম চালু করা হবে।

প্রকল্পটির পরিচালক ও মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা বিষয়ে জেনারেশন ব্রেক থ্রু প্রকল্পটি ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। প্রকল্পটির মেয়াদ সফলভাবে শেষ হয়েছে।

এ প্রকল্পের উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে, ১০ থেকে ১৯ বছরের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে জেন্ডার সাম্য আচরণ তৈরি করা, কিশোর-কিশোরীদের যৌন স্বাস্থ্য অধিকার সম্পর্কিত তথ্য ব্যবহার করতে শেখা। ক্লাস রুটিনের বাইরে গেমস, রোলিং প্লে, কুইজ ইত্যাদির মাধ্যমে জেন্ডার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের নিজেদের জানার বিষয়ে প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতন করা হবে।আর এর জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন থেকে চারজন করে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। দুই বছরে ২৬টি অধিবেশন পরিচালনা করা হবে।

পাশাপাশি কমিউনিটি অভিভাবকদের সচেতন করা হবে। প্রথমে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষকদের বিষয়টি প্রশিক্ষণ দেবেন বা ধারণা দেবেন। পরে সেখান থেকে তিন থেকে চারজন শিক্ষকদের নির্বাচন করে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো নিজ উদ্যোগে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আর সফলতার কারণে এবার সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মাউশির এ পরিচালক জানান, জেনারেশন ব্রেক থ্রু প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম এ বছরই শুরু হচ্ছে। নতুন করে যুক্ত হচ্ছে দেশের পাঁচটি জেলার ২৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এরপর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সব জেলায় এ কার্যক্রম চালু হবে। তারপর দেশের সব জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ধেক এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, এ বছর শুরু হওয়া প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ শেষ হবে ২০২২ সালে। এ পর্যায়ে জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, মৌলভীবাজার, পটুয়াখালী ও রাঙামাটি জেলায় ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের যৌন, প্রজনন-স্বাস্থ্যশিক্ষা দেওয়া হবে। প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের অর্থায়ন করবে কানাডা।এর আগে প্রকল্পের প্রথম ধাপে ঢাকা মহানগরের ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল শহরের মোট ৩৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি মাদ্রাসাও ছিল।

প্রকল্পটির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইআরের শিক্ষক অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই শিক্ষার চাহিদা আছে। তবে এটি শুধু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধতা না রেখে স্কুলের ম্যানিজিং কমিটি ও অভিভাবকদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে।’

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে দেখা গেল স্কুলে একটি বাচ্চা এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয়ার পর বাসায় গিয়ে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করল। তখন বাবা-মা বিষয়টিকে কীভাবে নেবেন সেটাই দেখার বিষয়।

এ শিক্ষকের মতে, সব জিনিসের ইতিবাচক-নেতিবাচক দিক রয়েছে। উদাহারণ হিসেবে যেমন কেউ টিভিতে ক্রাইম পেট্রোল দেখে গাড়ি চুরি করা শেখে আবার কেউ সেটা থেকে ভালো কিছু রপ্ত করে। যেকোনো শিক্ষার আগে সচেতনতা তৈরি করাই জরুরি বলে মনে করেন।

Sharing is caring!

Comments are closed.