স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার পরিচয় না দিয়ে গভীর রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে ভুক্তভোগী ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শুক্রবার সকালে ও বিকেলে তার ফেসবুক আইডিতে দুটি স্ট্যাটাস দেন, যেখানে বিড়ম্বনার নানা তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলছে।

অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার স্ত্রীর চিকিৎসা সেবা নিতে এসে এমন বিড়ম্বনার শিকার হলে সাধারণ রোগীদের অবস্থা কী? শুক্রবার দুটি স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। চিকিৎসা সেবা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ফেসবুকে মন্তব্যের ঝড় বয়ে যায়। তবে শুক্রবার রাতে দুটি স্ট্যাটাস ফেসবুক থেকে প্রত্যাহার করে নেন ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

ফেসবুকের সেই পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো- “রাত ৩ঃ৩০। আমার স্ত্রীর হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথা। ও চিৎকার করছিলো। খুব ঘাবড়ে গেলাম। ইমার্জেন্সি এম্বুলেন্সের অনেকগুলো নম্বর নিয়ে কল করতে থাকলাম। কেউ কল ধরল না। বড় বড় হাসপাতালের নম্বরে কল দিলাম। কেউ ধরলো না। একজন দয়া করে এম্বুলেন্সের কল ধরে জানালেন তার এম্বুলেন্স ঢাকায়। পাওয়া গেলো না। আমার মোটামুটি সব ড্রাইভারকে কল দিলাম। ধরলো না।

অসহায় অবস্থায় বাচ্চাকে ঘুম থেকে তুলে আমার স্ত্রীকে নিয়ে হাঁটা দিলাম ফাঁকা রাস্তায়। কিছুদূর গিয়ে একটা সিএনজি পেলাম। উনি যেতে রাজী হলেন। গেলাম কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ইমার্জেন্সি তখন ঘুমোচ্ছে। অনেক কষ্ট করে ডিউটি ডাক্তার সাহেবের ঘুম ভাঙানো হলো। উনি কাগজে লিখে দিয়ে ৪ তলায় ৪১৭ নম্বর ওয়ার্ডে যেতে বললেন। গেলাম। ওখানে ১৫ মিনিট কাওকে পেলাম না। অবশেষে এক সিস্টার বা আয়া এমন কেউ এলেন। জানলাম ডাক্তার সাহেব ঘুমোচ্ছেন।

পাক্কা আধা ঘণ্টা ধরে দরজা নক করার পর উনি এলেন। দেখলেন। তারপর ব্যবস্থাপত্র লিখতে গিয়ে দুটো কলমই কালি-শূন্য পেলেন। আবার গেলেন তার কক্ষে। গিয়ে ফিরলেন আরো ১০/১২ মিনিট পর। এদিকে বেশ কয়েকজন রোগী জমে গেছে। অবশেষে আমার স্ত্রীর ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লিখলেন- এলজিন ইঞ্জেকশন, নরমাল স্যালাইন আর খাবার স্যালাইন। মজার বিষয় হলো ডাক্তার সাহেব সাথে অতিরিক্ত দুটো স্লিপ ধরিয়ে দিলেন।

স্লিপ-০১ঃ ৭টি টেস্টের নাম। স্লিপ-০২ঃ বাদুরতলার শেফা ও আজাদ ক্লিনিকের নাম। মুখে বলে দিলেন এই টেস্টগুলো যেন ওখান থেকেই করাই। অনেকটা আদেশের মতো। আমি ভেজা বিড়ালের মতো বললাম, জি আচ্ছা। এর মাঝে কথা হলো দেবিদ্বার থেকে আসা এক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর স্বজনের সাথে। তার মহিলা রোগীর প্লাটিলেট কমেই চলছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কিন্তু মজার বিষয় হলো রোগীর ওয়ার্ডে কোন ডাক্তার নেই। ডাক্তার আসবেন সকালে অথবা আরো পরে। পরে আমার স্ত্রীকে নিয়ে চলে এলাম। ইঞ্জেকশনটা একটা বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পুশ করালাম।

এদিকে বিকালে আরও একটি স্ট্যাটাসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক তালুকদার জানান, ‘এটা কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নয়, আমি আমার স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির শিকার হয়েছি আমার উপলব্দি থেকে কেবলমাত্র তা তুলে ধরেছি।

তবে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে।

Sharing is caring!

Comments are closed.