গরুর চামড়াকে মাটিতে পুতে না ফেলে সেই চামড়া দিয়ে নিজেই তৈরি করে ফেলুন ঘরের কার্পেট। প্রতিবাদে মাটিতে পুতে ফেলে আমাদের লাভ কি? এক বছর চামড়া বিক্রি না করে কার্পেট বানিয়ে ফেললে দেখবেন জিনিশটা কাজে লাগবে সাথে মানসিক শান্তি পাবেন, আর চেয়ে চেয়ে দেখবেন সিন্ডিকেট কিভাবে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।

কাচা চামড়া থেকে কার্পেট তৈরির পুরো প্রসেসটা ইউটিউবে দেখতে পারেন। লাগছে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম কার্বোনেট, অক্সালিক এসিড, Neatsfoot oil, Saddle soap ইত্যাদি। প্রথমেই কাঁচা চামড়াটিকে উল্টো করে খাবার লবণ মেখে রেখে দিন। ভাল ভাবে লবণ মেখে রেখে দিলে প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত কোন গন্ধ হওয়া ছাড়াই রাখা যাবে। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে লবণ গুলো ধুয়ে ফেলতে হবে। চামড়ার গায়ে লেগে থাকা অতিরিক্ত মাংস ও চর্বি ভালভাবে ছেঁটে ফেলতে হবে।

এরপর, একটি অর্ধ কাটা ড্রামে পৌনে চার লিটার পানিতে (ওয়ার্ম ওয়াটার) এক কেজি খাবার লবণ ও এক কাপ অক্সালিক এসিড হারে গুলিয়ে নিতে হবে। ভাল করে মিশিয়ে তাতে চামড়াটি রাতভর ডুবিয়ে রাখতে হবে (এটাকে tanning বলে)। এই ডুবানো অবস্থায় দিনে একবার করে তিন দিন চামড়াটি ওলটপালট করে দিতে হবে।  তিনদিন পরে, পরিষ্কার পানি দিয়ে আবার চামড়াটি ধুয়ে নিতে হবে।

এরপর, কাটা ড্রামটিতে পানি নিতে হবে ও তাতে ওয়াশিং সোডা বা সোডিয়াম কার্বোনেট (পৌনে চার লিটার পানিতে এক কাপ হারে) মিশিয়ে নিতে হবে, ও তাতে চামড়াটি ঘণ্টা তিনেক ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে করে চামড়ায় বিদ্যমান চর্বি দূরীভূত হবে। অতঃপর, কাপড় ধোয়ার পাউডার (উল ডিটারজেন্ট) দিয়ে ভাল করে ধুয়ে, পানি ছাড়িয়ে, শুকানোর জন্যে টানিয়ে দিতে হবে। বাতাসের আদ্রতা ও তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে পুরোপুরি শুকাতে এক সপ্তাহ বা তাঁর কিছু বেশি লাগতে পারে।

এরপর শুকনো চামড়ায় ভিডিওতে দেখানো উপায়ে গ্লিসারিন সাবান ঘসে দিতে হবে (এতে করে চামড়া ভালভাবে তেল শোষণ করে নিবে) এবং তারপর একটি ব্রাসে করে উপরে বর্নিত তেল লাগিয়ে দিতে হবে। এই তেল চামড়াটিকে পচে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে। একটি চিরুনি দিয়ে আঁচড়িয়ে আলগা ও জট ওয়ালা পশম তুলে ফেললেই ব্যবহারের জন্যে রেডি আপনার কার্পেট।