স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের রাষ্ট্রীয় বাসভবনে হিজড়া

বাংলাদেশের সমাজে হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষের স্বীকৃতি ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরিতে সরকারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হিজড়া সম্প্রদায়ের একজন সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের রাষ্ট্রীয় বাসভবনে কেয়ারটেকার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

সম্প্রতি জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলের একটি ভিডিও প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্য রিয়াদি শামস জানান, গত ৪ মাস ধরে চাকরি খুঁজছিলেন তিনি। তবে, হিজড়া হওয়ায় হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক হওয়া সত্ত্বেও চাকরি পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে চাকরি পান।

রিয়াদি বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম এইখানেও আমার সাথে অন্য জায়গার মতো আচরণ করা হবে। কিন্তু আমার ধারণা ভুল ছিল। এখানে সবাই আমার সাথে একটা স্বাভাবিক মানুষের মতো আচরণ করে।”এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় বাসভবনের এক পরিচিত মুখ রিয়াদি। সেখানকার অন্যান্য কর্মীদের সাথেও তার সুসম্পর্ক রয়েছে। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য রেফাত বলেন, “রিয়াদির চলাফেরা ও ব্যবহার অনেক ভালো। তিনি সবারসঙ্গে মিলে-মিশে থাকেন।”

শুধু তাই নয়, কাজের পাশাপাশি ওই ভবনে কর্মরতদের লেখাপড়া শেখানোর দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি। তার সহকর্মীরা জানান এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার স্ত্রীও সবসময় লেখাপড়ার শেখার ব্যাপারে রিয়াদির সাহায্য নিতে বলেন। এব্যাপারে রিয়াদি খুবই দক্ষ বলেও জানান তার সহকর্মীরা। এর আগেও স্নাতক সম্পন্ন করার পর একটা চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে সহকর্মীদের চরম দুর্ব্যবহারে বেশিদিন টিকতে পারেননি। চারবছর আগে তার পরিবারও তাকে ত্যাগ করে। রিয়াদির ভাষায়, “সেখানকার পরিবেশ ছিল বিষাক্ত। আশেপাশের লোকজন হাসাহাসি করতো। সারাদিন আমাকে নিয়ে কটূক্তি করতো।”

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সবচাইতে অবহেলিত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি হলো এই হিজড়া সম্প্রদায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের পরিবার তাদের ত্যাগ করে। এমনকি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেই এদেশে তারা উপেক্ষিত। সম্প্রতি সরকার এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জিবনের মান উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

এপ্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, “এই জনগোষ্ঠীর মানুষের ব্যাপারে দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তন হওয়া উচিত। এরা পৈত্রিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না, ভোটাধিকার পায় না, ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে না। এরা একটা সম্পত্তির মালিক হতে পারে না। তাহলে কী হলো! কী দাঁড়ালো! আমরা সেজন্যই মনে করি, এদেরকে এভাবে চলতে যেতে দেওয়া যায় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি বুঝেছেন। আমার মনে হয়, অচিরেই এদের দুঃখ-বেদনার অবসান হবে।

 

 

Sharing is caring!

Comments are closed.