ফ্যাক্টঃ ফেসবুকে হয়রানি প্রতিকার মিলবে যেভাবে –

ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস বিদ্বেষমূলক কথা বা হেট স্পিচ দিয়ে, ছবি বিকৃত করে, ভুয়া পেজ ও আইডি খুলে আজকাল হরহামেশা অনেককে হয়রানি করা হচ্ছে।

অনেকে এসবের কারণে নিপীড়নের শিকারও হচ্ছেন। নিগৃহীত হচ্ছেন সামাজিকভাবে। অনেকের জীবন হুমকির মধ্যে পড়েছে। কারও সম্পর্ক ভাঙছে, ভাঙছে সংসারও। কেবল প্রতিকার পাওয়ার উপায় জানা না থাকায় দিনদিন এসব বেড়েই চলেছে।

ফেসবুক তথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের কিছু ঘটলে, তা থেকে প্রতিকারের উপায় রয়েছে। ভুক্তভোগী চাইলে যিনি হয়রানি করছেন তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় অভিযোগ করতে পারেন আইসিটি অ্যাক্টে তার বা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা তাকে সুরক্ষা দেবে। অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিতে অভিযোগ করতে পারেন, সমাধান মিলবে।

যদি একান্তই এসব কিছু করা না যায় তাহলে ফেসবুকের মাধ্যমে কোনও কিছু ঘটলে ফেসবুকে সরাসরি রিপোর্ট করারও ব্যবস্থা রয়েছে। উপযুক্ত তথ্যাদি দিতে পারলে ফেইসবুক পাশে এসে দাঁড়াবে।

তবে কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানান তাহলে কমিশন তাদের সহযোগিতা করে থাকে, সমাধান পাওয়ার পথ দেখিয়ে দিতে পারে।’
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা

৫৭-এর ১ উপধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনও ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনও ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।

অপরাধের শাস্তি
৫৭ ধারার ২ নম্বর উপধারায় বলা হয়, ‘কোনও ব্যক্তি উপ-ধারা (১)-এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বছর এবং ন্যূনতম সাত বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

অপরাধী যদি দেশের থাকে আপনি মামলা করে যথাযথ আইনের মাধ্যমে দেশে এনে আইনের আওতায় আনতে পারেন ।