ডায়নামিক পদ্ধতিতে আবিস্কৃত সিলেটের ওসমানীনগরের মফস্বলের ছেলে সৌরভ সুত্র ধর (১৯) ডায়নামিক পদ্ধতিতে বাইসাইকেল আবিস্কার করে এলাকার মানুষকে অবাক করে দিয়েছে।

বাইসাইকেলটি একচার্জে চলে অর্ধশত কিলোমিটার। এমনকি ঢাকাসহ সারাদেশে ভ্রমন করা যাবে। এ পদ্ধতির সাইকেল বাংলাদেশসহ বর্হিঃবিশ্বে আর কেউ আবিস্কার করেনি বলে জানায় সৌরভ।


তিনি এটার নাম দিয়েছেন ‘ড্রিম হর্স’। আর্থিক সহযোগিতা পেলে নিত্য নতুন অনেক কিছু আবিস্কার করতে পারবে বলে সৌরভ জানায়।

তার এ বাইসাইকেল বাজারজাত হলে লাখ টাকার মোটরসাইকেলের বিকল্প এবং সহজলভ্য দ্রুতজান পাবে দেশের সকল শ্রেণির মানুষ।

উদ্ভাবক সৌরভ সুত্র ধর ওসমানীনগর উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের মীর্জাপুর গ্রামের মাষ্টার টেইলার সত্যেন্দ্র সুত্র ধর ও গৃহীনি চম্পা সুত্র ধরের একমাত্র ছেলে।

তাজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্জন শুরু করে ২০১৬ সালে মঙ্গলচন্ডি নিশিকান্ত মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে।

এরপর একই বছর মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের আর,এ,সি ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়। বর্তমানে সে এই ক্লাসের ৫ম বর্ষের পরীক্ষার্থী।
বাংলাদেশ-চায়না-জাপানের উদ্যোগে আয়েজিত ‘স্কিল কম্পিউটিশন’ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করে গত বছরের (২০১৮ সালে) ৩ নভেম্বর মৌলভীবাজার জেলা পর্যায়ে ও সিলেট বিভাগীয় পর্যায় ২৫ নভেম্বর। প্রতিযোগিতা দুটিতে সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।

তার আবিস্কারের পিছনে তার বাবার উৎসাহ ও সার্বিক সহযোগিতায় মূখ্য ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনের অপেক্ষার প্রহর গুনছে।

তার এ উদ্ভাবনের পিছনে দুটি বিষয় কাজ করে, তার এক বন্ধুর জ্বালানী ছাড়া স্কোটার চালানোর শখ এবং বিজ্ঞানের সুত্র, “শক্তির ক্ষয় নেই, বরং এটি বাড়তে থাকে।

তিন মাসের চেষ্টায় সে ডায়নামিক পদ্ধতিতে বাইসাইকেল আবিস্কার করে বন্ধু মহলে অবাক করে দেয়।

সৌরভ জানান এ ধরণের বাইসাইকেল আবিস্কার করতে অনেক টাকা ও সময় ব্যয় করতে হয়েছে। কাজ করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতা ও বাধার সম্মূখীন হয়। কিন্তু কোন কিছুই তার মনোবালকে আটকাতে পারেনি। এটি তৈরি করতে গিয়ে বিভিন্ন কোম্পানীর কাছে যন্ত্রের নমুনা ও ফরমাইশ দিয়ে তৈরি করিয়ে আনতে হয়েছে।

বাইসাইকেলে লাগানো হয়েছে ডায়নামা, ইনভারেটর, চার্জার কিট মোটর সাইকেলের মত হেড লাইট, হর্ণ, ব্যাক ঘিয়ার, স্পীড মিটার. এন্টি থিফ লক ও সৌর বিদ্যুতের সোলার।

এটি ঘন্টায় ২৭ কিলোমিটার চলে। আড়াই ঘন্টার ফুল চার্জে অর্ধশত কিলোমিটার চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। এছাড়া এ বাইসাইকেল দিয়ে পানি উত্তোলন করে জমিতে সেচ দেয়া যায়। ১৫০ কেজি অজন নিয়ে অনায়াচে চলতেও পারে।এটি তৈরি করতে সৌরভের প্রায় ২৫ হাজার টাকার খরচ হয়েছে। তবে বাজারজাত হলে এর অর্ধেক টাকা খরচ হবে। অনুরূপ পদ্ধতিতে জ্বালানী ছাড়া মোটরসাইকেল ও কার চালানো যাবে বলে তিনি জানান। সৌরভ এখন ব্যাটারি ও জ্বালানী ছাড়া সাইকেল ও গাড়ি চালানো আবিস্কারের চেষ্টায় আছেন এবং আর্থিক ও যন্ত্রপাতির সহযোগিতা পেলে তা তার পক্ষে সম্ভব বলেও জানান।

সৌরভ বলেন, আমাদের আর্থিক অবস্থার কারণে অনেক কিছু আবিস্কার করতে পারছি না। কারিগড়ি শিক্ষার পথে আমরা যত দ্রুত এগিয়ে আসবো আমাদের দেশ তত দ্রুত এগিয়ে যাবে। নিত্য নতুন জিনিস আবিস্কার করে আমার দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে চাই। এ পথে নতুন প্রজন্মরা এগিয়ে আসলে আমরা চীন-জাপানের মত হতে পারবো।

সৌরভের বাবা সত্যেন্দ্র সুত্র ধর বলেন, আমার ছেলের জন্য সকলের কাছে প্রার্থনার আবেদন করছি, সে যেন তার এ উদ্ভাবন দিয়ে জাতীয় পর্যায় শ্রেষ্টত্ব অর্জনের পাশাপাশি আরো অনেক কিছু আবিস্কার করতে পারে।